ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

গ্যাস্ট্রিক ও আলসার: কখন সচেতন হবেন, করণীয় কী?

পেটের গ্যাস, অম্লতা ও বদহজমের সমস্যাকে আমরা সাধারণত ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে থাকি। অন্যদিকে, পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের আবরণে যখন ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হয়, তখন তাকে ‘গ্যাস্ট্রিক আলসার’ বলা হয়। যদিও অনেকে এই দুটি সমস্যাকে এক মনে করেন, তবে রোগ দুটি ভিন্ন প্রকৃতির। গ্যাস্ট্রিক সাধারণত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা হলেও, গ্যাস্ট্রিক আলসার অপেক্ষাকৃত গুরুতর এক ব্যাধি, যা দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার অভাবে জটিল রূপ নিতে পারে।

সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের পেছনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চা, কফি ও কোমল পানীয় সেবন, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, ধূমপান, তামাক ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব দায়ী। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি, গ্যাসজনিত পেট ফাঁপা এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD)। জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তবে গ্যাস্ট্রিক আলসারের কারণগুলো আরও সুনির্দিষ্ট। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ এবং গুরুতর অসুস্থতা বা শারীরিক আঘাতের কারণে আলসার হতে পারে। আলসারের প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে গ্যাস্ট্রিক আলসার (পাকস্থলীর ভেতরে ক্ষত), ডিওডেনাল আলসার (ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে ঘা), ইসোফেজিয়াল আলসার (খাদ্যনালির নিচের অংশে ক্ষত) এবং স্ট্রেস আলসার (গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের পর)।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পেটের ওপরের অংশে তীব্র জ্বালাপোড়া, ক্ষুধামান্দ্য ও ওজন কমে যাওয়া। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

আলসার প্রতিরোধে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অতিভোজন এড়িয়ে চলা, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা এবং রাতে দেরি করে ভারী খাবার না খাওয়া আলসার প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান ও তামাক পরিহার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলসারের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে সময়মতো রোগটি শনাক্ত ও নিরাময় করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান

গ্যাস্ট্রিক ও আলসার: কখন সচেতন হবেন, করণীয় কী?

আপডেট সময় : ০২:০০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

পেটের গ্যাস, অম্লতা ও বদহজমের সমস্যাকে আমরা সাধারণত ‘গ্যাস্ট্রিক’ বলে থাকি। অন্যদিকে, পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের আবরণে যখন ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হয়, তখন তাকে ‘গ্যাস্ট্রিক আলসার’ বলা হয়। যদিও অনেকে এই দুটি সমস্যাকে এক মনে করেন, তবে রোগ দুটি ভিন্ন প্রকৃতির। গ্যাস্ট্রিক সাধারণত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা হলেও, গ্যাস্ট্রিক আলসার অপেক্ষাকৃত গুরুতর এক ব্যাধি, যা দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার অভাবে জটিল রূপ নিতে পারে।

সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের পেছনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, অতিরিক্ত ঝাল, তেলযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত চা, কফি ও কোমল পানীয় সেবন, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ, ধূমপান, তামাক ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব দায়ী। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি, গ্যাসজনিত পেট ফাঁপা এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD)। জীবনযাত্রার মান উন্নত করে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তবে গ্যাস্ট্রিক আলসারের কারণগুলো আরও সুনির্দিষ্ট। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ এবং গুরুতর অসুস্থতা বা শারীরিক আঘাতের কারণে আলসার হতে পারে। আলসারের প্রকারভেদের মধ্যে রয়েছে গ্যাস্ট্রিক আলসার (পাকস্থলীর ভেতরে ক্ষত), ডিওডেনাল আলসার (ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রথম অংশে ঘা), ইসোফেজিয়াল আলসার (খাদ্যনালির নিচের অংশে ক্ষত) এবং স্ট্রেস আলসার (গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের পর)।

গ্যাস্ট্রিক আলসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পেটের ওপরের অংশে তীব্র জ্বালাপোড়া, ক্ষুধামান্দ্য ও ওজন কমে যাওয়া। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।

আলসার প্রতিরোধে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। অতিভোজন এড়িয়ে চলা, ঝাল ও ভাজাপোড়া খাবার কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করা এবং রাতে দেরি করে ভারী খাবার না খাওয়া আলসার প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান ও তামাক পরিহার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলসারের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে সময়মতো রোগটি শনাক্ত ও নিরাময় করা যায়।