ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

খুলনা পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে চরম অব্যবস্থাপনা: রোগীদের ভোগান্তি, ইসকন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

খুলনার পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্র (ইনমাস), যা থাইরয়েড ও ক্যানসারসহ দুরারোগ্য ব্যাধির নির্ভুল নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটির অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই সিরিয়াল নেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরি প্যাথলজি টেস্টের রিপোর্ট পেতে ৮-১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে, যার ফলে কাউন্টারে কর্মরতরাই রোগীদের দ্রুত রিপোর্টের জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

রোগীদের এই দুর্ভোগের জন্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. ঝর্ণা দাসকে দায়ী করা হচ্ছে, যিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একই পদে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে বসে উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠন ‘ইসকন’-এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন হলেও জনবল সংকটে ভুগছে। এক পদের কর্মীকে অন্য পদে কাজ করানো এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় সেবার মান নিম্নগামী হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসবের প্রতিকার চেয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং পরিচালকের (অর্থ) কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগও করেছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্যাধুনিক চারটি মেশিন থাকা সত্ত্বেও এখানে দিনে মাত্র ২৫-৩০টি আলট্রাসনো করা হয়। হরমোন ও থাইরয়েডের বিভিন্ন ধরনের টেস্টের রিপোর্টে দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে। কর্মীদের অভিযোগ, পরিচালকের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও খামখেয়ালিপনার কারণেই কেন্দ্রে এমন বেহাল দশা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের তৃতীয় বার্ষিকী: এক গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে

খুলনা পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্রে চরম অব্যবস্থাপনা: রোগীদের ভোগান্তি, ইসকন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

খুলনার পরমাণু চিকিৎসাকেন্দ্র (ইনমাস), যা থাইরয়েড ও ক্যানসারসহ দুরারোগ্য ব্যাধির নির্ভুল নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমানে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রটির অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই সিরিয়াল নেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জরুরি প্যাথলজি টেস্টের রিপোর্ট পেতে ৮-১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে, যার ফলে কাউন্টারে কর্মরতরাই রোগীদের দ্রুত রিপোর্টের জন্য বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

রোগীদের এই দুর্ভোগের জন্য কেন্দ্রের পরিচালক ডা. ঝর্ণা দাসকে দায়ী করা হচ্ছে, যিনি দীর্ঘ ২১ বছর ধরে একই পদে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে বসে উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠন ‘ইসকন’-এর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের অধীনে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি আধুনিকায়ন হলেও জনবল সংকটে ভুগছে। এক পদের কর্মীকে অন্য পদে কাজ করানো এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দেওয়ায় সেবার মান নিম্নগামী হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসবের প্রতিকার চেয়ে পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং পরিচালকের (অর্থ) কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগও করেছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, অত্যাধুনিক চারটি মেশিন থাকা সত্ত্বেও এখানে দিনে মাত্র ২৫-৩০টি আলট্রাসনো করা হয়। হরমোন ও থাইরয়েডের বিভিন্ন ধরনের টেস্টের রিপোর্টে দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে। কর্মীদের অভিযোগ, পরিচালকের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব ও খামখেয়ালিপনার কারণেই কেন্দ্রে এমন বেহাল দশা।