ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বগুড়ার ১২তম পৌরসভা হচ্ছে মোকামতলা: আইনি শর্ত পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

আইনি শর্ত ও জনসংখ্যার মাপকাঠি পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও বগুড়ার ১১টি উপজেলায় পৌরসভা গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে, যা জেলার ১২তম পৌরসভা হবে। গত ২৩ জুন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশফিকুন নাহার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন, যেখানে মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা, চকরামচন্দ্রপুর, কাশিপুর, লস্করপুর, লক্ষ্মীপুর, শঙ্করপুর, চাকলমা, মুরাদপুর, মালাহার ও চকপাড়া মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে পৌরসভা গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শহর ঘোষণার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কারো আপত্তি থাকলে এক মাসের মধ্যে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

মোকামতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম জানান, এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় তারা পৌরসভা হওয়ার জন্য পুনরায় আবেদন করেছেন। তবে, পৌরসভা আইন অনুযায়ী এই আবেদন গ্রহণের সুযোগ ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে শহর ঘোষণা করতে হলে চারটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়: (১) তিন-চতুর্থাংশ ব্যক্তি অকৃষি পেশায় নিয়োজিত থাকতে হবে, (২) ৩৩ শতাংশ ভূমি অকৃষি প্রকৃতির হতে হবে, (৩) জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে দেড় হাজারের বেশি হতে হবে, এবং (৪) জনসংখ্যা ৫০ হাজারের কম হওয়া চলবে না।

মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩০ হাজার ২৮৮ জন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম জানিয়েছেন, বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি হবে, তবে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলাকার জনসংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হবে না। এছাড়াও, পুরো ইউনিয়নকে পৌরসভা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, বরং ২৪টি মৌজার মধ্যে মাত্র ১০টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মোকামতলা ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র। এখানে আলু, ধান ও সবজির পাইকারি কেনাবেচা হয়। তবে, জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ অকৃষিজীবী নয়। ফাহিমা বেগম স্বীকার করেছেন যে, তার এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যবসায়ী এবং বাকি অর্ধেকের মধ্যে কৃষিজীবীর সংখ্যাই বেশি, তবে চাকরিজীবীও রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, আইনি শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ৭৩ বিনিয়োগকারীর অভিযোগে লাপাত্তা ওয়াহিদুল

বগুড়ার ১২তম পৌরসভা হচ্ছে মোকামতলা: আইনি শর্ত পূরণ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১২:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

আইনি শর্ত ও জনসংখ্যার মাপকাঠি পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও বগুড়ার ১১টি উপজেলায় পৌরসভা গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ শিবগঞ্জের মোকামতলা ইউনিয়নকে পৌরসভায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে, যা জেলার ১২তম পৌরসভা হবে। গত ২৩ জুন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশফিকুন নাহার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন, যেখানে মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা, চকরামচন্দ্রপুর, কাশিপুর, লস্করপুর, লক্ষ্মীপুর, শঙ্করপুর, চাকলমা, মুরাদপুর, মালাহার ও চকপাড়া মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে পৌরসভা গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শহর ঘোষণার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কারো আপত্তি থাকলে এক মাসের মধ্যে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে।

মোকামতলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম জানান, এটি একটি বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় তারা পৌরসভা হওয়ার জন্য পুনরায় আবেদন করেছেন। তবে, পৌরসভা আইন অনুযায়ী এই আবেদন গ্রহণের সুযোগ ছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে শহর ঘোষণা করতে হলে চারটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়: (১) তিন-চতুর্থাংশ ব্যক্তি অকৃষি পেশায় নিয়োজিত থাকতে হবে, (২) ৩৩ শতাংশ ভূমি অকৃষি প্রকৃতির হতে হবে, (৩) জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে দেড় হাজারের বেশি হতে হবে, এবং (৪) জনসংখ্যা ৫০ হাজারের কম হওয়া চলবে না।

মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইটে ২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩০ হাজার ২৮৮ জন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম জানিয়েছেন, বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি হবে, তবে পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত এলাকার জনসংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হবে না। এছাড়াও, পুরো ইউনিয়নকে পৌরসভা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, বরং ২৪টি মৌজার মধ্যে মাত্র ১০টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মোকামতলা ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্র। এখানে আলু, ধান ও সবজির পাইকারি কেনাবেচা হয়। তবে, জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ অকৃষিজীবী নয়। ফাহিমা বেগম স্বীকার করেছেন যে, তার এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ ব্যবসায়ী এবং বাকি অর্ধেকের মধ্যে কৃষিজীবীর সংখ্যাই বেশি, তবে চাকরিজীবীও রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, আইনি শর্ত পূরণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।