ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রংপুরে তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ধস, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম এবং তুষভান্ডার অতিক্রম করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করেছে। উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও জমে থাকা পানির কারণে উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়কের প্রায় ১৫টি স্থানে ধস ও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে, যা ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্যও চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে অধিকাংশ যানবাহন গতি কমিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাচল করছে। কিছু চালক বিপরীত পাশ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পথ পার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, রাতের অন্ধকারে গর্তগুলো স্পষ্ট বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মিয়া জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই রাস্তার কয়েকটি জায়গা দেবে যেতে শুরু করে এবং এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। পথচারী মাহমুদ মিয়াও সড়কটির ক্রমেই অবনতিশীল অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভারী যানবাহনের চাপ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সড়কটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত টেকসই সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ৭৩ বিনিয়োগকারীর অভিযোগে লাপাত্তা ওয়াহিদুল

রংপুরে তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কে ভয়াবহ ধস, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটতে পারে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা যায়, রংপুর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম এবং তুষভান্ডার অতিক্রম করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করেছে। উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও জমে থাকা পানির কারণে উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়কের প্রায় ১৫টি স্থানে ধস ও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু স্থানে পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে, যা ভারী যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের জন্যও চলাচলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে অধিকাংশ যানবাহন গতি কমিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চলাচল করছে। কিছু চালক বিপরীত পাশ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পথ পার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, রাতের অন্ধকারে গর্তগুলো স্পষ্ট বোঝা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মিয়া জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই রাস্তার কয়েকটি জায়গা দেবে যেতে শুরু করে এবং এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। পথচারী মাহমুদ মিয়াও সড়কটির ক্রমেই অবনতিশীল অবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ভারী যানবাহনের চাপ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সড়কটি এমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত টেকসই সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।