ঢাকা ০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল, জাপানের স্বপ্নভঙ্গ

প্রথম ৪৫ মিনিটে মনে হচ্ছিল, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত চিন্তায় ব্রাজিল যেন জাপানের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। বলের দখল তাদের থাকলেও, ম্যাচ ছিল পুরোপুরি জাপানের নিয়ন্ত্রণে। হিউস্টনের মাঠে জাপানি কোচ হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা এমন সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত ফুটবল উপহার দিল যে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ একের পর এক নিষ্ফল হয়ে ফিরে আসছিল। মনে হচ্ছিল, সেলেসাও যেন প্রতিপক্ষের নিখুঁত কৌশলগত জালে আটকা পড়েছে।

তবে ফুটবল শুধু প্রথমার্ধের খেলা নয়। ড্রেসিংরুমে ১৫ মিনিটের বিরতি অনেক সময় পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঠিক সেটাই করলেন।

একটি কৌশলগত পরিবর্তন, একটি ভিন্ন আক্রমণ পরিকল্পনা—আর তার ফলস্বরূপ দ্বিতীয়ার্ধে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য এক ব্রাজিলকে। কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরানোর পর ইনজুরি টাইমে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে এলো জয়সূচক গোল। ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা করে নিল ব্রাজিল। প্রথমার্ধ ছিল জাপানের মাস্টারক্লাস, আর পরের অর্ধ ছিল ব্রাজিলের ব্লকবাস্টার মেজাজে ফিরে আসার গল্প!

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল বলের দখল নিয়েছিল। প্রথম ২০ মিনিটে তাদের বল দখল ছিল ৭০ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু সেই দখলের কোনো ধার ছিল না। ব্রুনো গিমারায়েসের একের পর এক দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, মাথেউস কুনিহার প্রচেষ্টা সহজেই সামলেছেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। ভিনিসিউস জুনিয়রকে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছিল যে তার গতি কিংবা এককভাবে ড্রিবল করার সামর্থ্য কোনোটিই কাজে আসেনি।

জাপান ঠিক এটাই চেয়েছিল এবং প্রথমার্ধের গোলে এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিলকে বিদায় করার পথ প্রায় তৈরি করেই ফেলেছিল। কিন্তু ব্রাজিল প্রমাণ করল, পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত মেজাজে ফিরে এসে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।

প্রথমার্ধে পাঁচ ডিফেন্ডার ও চার মিডফিল্ডারের ঘন ব্লক তৈরি করে জাপানিরা ব্রাজিলের মাঝমাঠের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে ব্রাজিলকে পরিকল্পনা বদলে উইং ধরে খেলতে হয়। কিন্তু সেখানে ছিল না ওভারল্যাপ, ছিল না ডিপ রান, ছিল না বক্সে পর্যাপ্ত উপস্থিতি। ফলে শত শত পাসের পরও ব্রাজিলের আক্রমণ হয়ে উঠছিল নিষ্প্রাণ। ২৯ মিনিটে সেই কৌশলেরই পুরস্কার পায় জাপান। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে আসেন কাইশু সানো, এবং তিনিই দলকে এগিয়ে দেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ৭৩ বিনিয়োগকারীর অভিযোগে লাপাত্তা ওয়াহিদুল

নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল, জাপানের স্বপ্নভঙ্গ

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

প্রথম ৪৫ মিনিটে মনে হচ্ছিল, আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত চিন্তায় ব্রাজিল যেন জাপানের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। বলের দখল তাদের থাকলেও, ম্যাচ ছিল পুরোপুরি জাপানের নিয়ন্ত্রণে। হিউস্টনের মাঠে জাপানি কোচ হাজিমে মরিয়াসুর শিষ্যরা এমন সুশৃঙ্খল ও সংগঠিত ফুটবল উপহার দিল যে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণ একের পর এক নিষ্ফল হয়ে ফিরে আসছিল। মনে হচ্ছিল, সেলেসাও যেন প্রতিপক্ষের নিখুঁত কৌশলগত জালে আটকা পড়েছে।

তবে ফুটবল শুধু প্রথমার্ধের খেলা নয়। ড্রেসিংরুমে ১৫ মিনিটের বিরতি অনেক সময় পুরো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ঠিক সেটাই করলেন।

একটি কৌশলগত পরিবর্তন, একটি ভিন্ন আক্রমণ পরিকল্পনা—আর তার ফলস্বরূপ দ্বিতীয়ার্ধে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য এক ব্রাজিলকে। কাসেমিরোর হেডে সমতা ফেরানোর পর ইনজুরি টাইমে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দারুণ দলীয় আক্রমণ থেকে এলো জয়সূচক গোল। ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলোতে নিজেদের জায়গা করে নিল ব্রাজিল। প্রথমার্ধ ছিল জাপানের মাস্টারক্লাস, আর পরের অর্ধ ছিল ব্রাজিলের ব্লকবাস্টার মেজাজে ফিরে আসার গল্প!

ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল বলের দখল নিয়েছিল। প্রথম ২০ মিনিটে তাদের বল দখল ছিল ৭০ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু সেই দখলের কোনো ধার ছিল না। ব্রুনো গিমারায়েসের একের পর এক দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, মাথেউস কুনিহার প্রচেষ্টা সহজেই সামলেছেন জাপানের গোলরক্ষক জিওন সুজুকি। ভিনিসিউস জুনিয়রকে এমনভাবে আটকে রাখা হয়েছিল যে তার গতি কিংবা এককভাবে ড্রিবল করার সামর্থ্য কোনোটিই কাজে আসেনি।

জাপান ঠিক এটাই চেয়েছিল এবং প্রথমার্ধের গোলে এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিলকে বিদায় করার পথ প্রায় তৈরি করেই ফেলেছিল। কিন্তু ব্রাজিল প্রমাণ করল, পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত মেজাজে ফিরে এসে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।

প্রথমার্ধে পাঁচ ডিফেন্ডার ও চার মিডফিল্ডারের ঘন ব্লক তৈরি করে জাপানিরা ব্রাজিলের মাঝমাঠের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাধ্য হয়ে ব্রাজিলকে পরিকল্পনা বদলে উইং ধরে খেলতে হয়। কিন্তু সেখানে ছিল না ওভারল্যাপ, ছিল না ডিপ রান, ছিল না বক্সে পর্যাপ্ত উপস্থিতি। ফলে শত শত পাসের পরও ব্রাজিলের আক্রমণ হয়ে উঠছিল নিষ্প্রাণ। ২৯ মিনিটে সেই কৌশলেরই পুরস্কার পায় জাপান। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে উঠে আসেন কাইশু সানো, এবং তিনিই দলকে এগিয়ে দেন।