ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করার সময় মোহাম্মদ মাসুদ (১৯) নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে গৌরীপুর থানা পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত মাসুদ কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৮-ই ব্লকের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বাবার নাম মো. জোবায়ের এবং মায়ের নাম শাকিলা খাতুন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আটক মাসুদ গৌরীপুর এলাকায় ভোটার হওয়ার জন্য নিয়ম অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে তার জমা দেওয়া নথিপত্রে বাবার নাম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, মায়ের নাম শান্তনা আক্তার এবং ঠিকানা হিসেবে গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের দৌলতাবাদ গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয়। জমা দেওয়া ভুয়া নথির মধ্যে ছিল সহনাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত নাগরিকত্ব ও চারিত্রিক সনদপত্র, জন্মনিবন্ধন, একটি মাদ্রাসার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার প্রতিবেদন।
সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ভোটার হতে এলে মাসুদের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। তিনি মুখে বাংলা বলতে পারলেও বাংলায় লিখতে পারছিলেন না এবং স্বাক্ষর দিতে গিয়ে অন্য ভাষায় স্বাক্ষর করেন। এতে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তার কাগজে-কলমে দেওয়া ঠিকানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতাবাদ গ্রামে মোহাম্মদ মাসুদ নামে কোনো ব্যক্তি নেই। জমা দেওয়া মাদ্রাসার প্রত্যয়নপত্র যাচাই করেও একই তথ্য পাওয়া যায় যে, ওই নামে তাদের কোনো শিক্ষার্থী কখনো ছিল না।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফাওজুল কবীর খান জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর মাসুদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয় এবং যাচাই করে দেখা যায়, তার সব নথিপত্রই ভুয়া। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে তিনি ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আটক মাসুদ স্বীকার করেছেন যে, কদ্দুছ বা কবীর নামের এক ব্যক্তি তাকে এক লাখ টাকার চুক্তিতে ভোটার আইডি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং তিনি ইতিমধ্যেই ওই ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। মাসুদ আরও জানান, কয়েক দিন আগে তাঁকে গৌরীপুরে আনা হয় এবং গৌরীপুর স্টেশান রোডের একটি হোটেলে রাখা হয়। পরে সোমবার দুপুরে সাগর নামের আরেক ব্যক্তি তাকে নির্বাচন অফিসে নিয়ে আসেন।
রিপোর্টারের নাম 
























