ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বেনজীরের পতন: যেভাবে তৈরি হলো এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’

এক সময়ের প্রতাপশালী সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পতন আজ এক নির্মম বাস্তবতার নাম। ক্ষমতার দম্ভে যিনি একসময় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতের পুতুল ভাবতেন, সেই বেনজীর আহমেদ ২০২৬ সালের ১২ জুন দুবাইয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিসে গ্রেপ্তার হন। সাধারণ মানুষ তার দুর্নীতির পাহাড় দেখে আজ স্তম্ভিত হলেও, কীভাবে এক সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ‘সুরক্ষাকবচ’ ভেঙে এই দানব তৈরি হয়েছিল, তা এখনো এক অপ্রকাশিত অধ্যায়। অথচ এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস অনেক আগেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো চিঠিতে নথিবদ্ধ ছিল, যা আমলে নিলে হয়তো এই কলঙ্কজনক অধ্যায় এড়ানো যেত।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কালে ২০০৩-০৪ সালের দিকে গঠিত হয় এলিট ফোর্স র‍্যাব। তৎকালীন প্রথাবদ্ধ পুলিশ বাহিনী যখন রাজনৈতিক চাপ ও নৈতিক স্খলনের কারণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, তখনই এই বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। প্রথম উদ্যোগ ‘র‍্যাট’ ব্যর্থ হওয়ার পর সেনাবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা ও রণকৌশলকে কাজে লাগিয়ে জন্ম নেয় র‍্যাব। এর নেপথ্য আইন ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এনএসআই ও ডিজিএফআই।

তবে শুরু থেকেই র‍্যাবে সামরিক বাহিনীর আধিপত্যকে পুলিশ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে, যার ফলে শীর্ষ স্তর থেকে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক অসহযোগিতা শুরু হয়। এই সংকট নিরসনে এনএসআইয়ের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার একটি কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করে। সেই সমীকরণ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মহাপরিচালকের পদটি সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত থাকলেও, পুলিশের ক্ষোভ প্রশমনে তা অতিরিক্ত আইজিপি আনোয়ার ইকবালকে দেওয়া হয়। তবে বাহিনীর মূল অপারেশনাল মেরুদণ্ড ও কঠোর সামরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ADG-Operations) পদটি সম্পূর্ণভাবে সেনাবাহিনীর হাতেই ন্যস্ত রাখা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁশখালীতে ৩১ কোটি টাকা আত্মসাৎ: ৭৩ বিনিয়োগকারীর অভিযোগে লাপাত্তা ওয়াহিদুল

বেনজীরের পতন: যেভাবে তৈরি হলো এক ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’

আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

এক সময়ের প্রতাপশালী সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পতন আজ এক নির্মম বাস্তবতার নাম। ক্ষমতার দম্ভে যিনি একসময় পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতের পুতুল ভাবতেন, সেই বেনজীর আহমেদ ২০২৬ সালের ১২ জুন দুবাইয়ে ইন্টারপোলের রেড নোটিসে গ্রেপ্তার হন। সাধারণ মানুষ তার দুর্নীতির পাহাড় দেখে আজ স্তম্ভিত হলেও, কীভাবে এক সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ‘সুরক্ষাকবচ’ ভেঙে এই দানব তৈরি হয়েছিল, তা এখনো এক অপ্রকাশিত অধ্যায়। অথচ এই বিপর্যয়ের পূর্বাভাস অনেক আগেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো চিঠিতে নথিবদ্ধ ছিল, যা আমলে নিলে হয়তো এই কলঙ্কজনক অধ্যায় এড়ানো যেত।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কালে ২০০৩-০৪ সালের দিকে গঠিত হয় এলিট ফোর্স র‍্যাব। তৎকালীন প্রথাবদ্ধ পুলিশ বাহিনী যখন রাজনৈতিক চাপ ও নৈতিক স্খলনের কারণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, তখনই এই বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। প্রথম উদ্যোগ ‘র‍্যাট’ ব্যর্থ হওয়ার পর সেনাবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা ও রণকৌশলকে কাজে লাগিয়ে জন্ম নেয় র‍্যাব। এর নেপথ্য আইন ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এনএসআই ও ডিজিএফআই।

তবে শুরু থেকেই র‍্যাবে সামরিক বাহিনীর আধিপত্যকে পুলিশ তাদের প্রাতিষ্ঠানিক আত্মসম্মানে আঘাত হিসেবে দেখে, যার ফলে শীর্ষ স্তর থেকে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক অসহযোগিতা শুরু হয়। এই সংকট নিরসনে এনএসআইয়ের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরকার একটি কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করে। সেই সমীকরণ অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে মহাপরিচালকের পদটি সেনাবাহিনীর জন্য নির্ধারিত থাকলেও, পুলিশের ক্ষোভ প্রশমনে তা অতিরিক্ত আইজিপি আনোয়ার ইকবালকে দেওয়া হয়। তবে বাহিনীর মূল অপারেশনাল মেরুদণ্ড ও কঠোর সামরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ADG-Operations) পদটি সম্পূর্ণভাবে সেনাবাহিনীর হাতেই ন্যস্ত রাখা হয়।