মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। রায় ঘোষণার জন্য তাকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিত ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, বাংলাদেশ টেলিভিশন রায় ঘোষণার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করবে। গত ২২ জুন ট্রাইব্যুনাল এই তারিখ নির্ধারণ করেছিল।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গত ১৪ মে শেষ হওয়ার পর থেকেই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে ইনু আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী অংশীদার ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ ও ৪ আগস্ট তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। সেই কথোপকথনে ইনু কারফিউ জারি করা এবং ‘জুলাই আন্দোলন’কে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে ‘জঙ্গি কার্ড’ খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি আন্দোলনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে এক অংশকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর কথা বলেছিলেন।
প্রসিকিউশন এই মামলায় ১০ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে এবং কথোপকথনের ভিডিও ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, জনাব ইনু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সাধারণ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে নিপীড়ন চালানোর কৌশল ও পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর ফলে বহু লোকের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। প্রসিকিউশন তার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে। গত বছরের ১ ডিসেম্বর এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল এবং গত ২ এপ্রিল ইনুর আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী টানা নয় কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















