ঘরে অলস পড়ে থাকা নগদ অর্থ ব্যাংকিং খাতে ফিরিয়ে আনতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের একটি প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। এই প্রস্তাবটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে, যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে, বড় এই ব্যাংক নোট দুটি বর্তমানে আগের মতোই সচল রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যাংক নোট বাতিলের নজির রয়েছে এবং বাংলাদেশেও অতীতে এমন ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি উল্লেখ করেছেন যে, এটি কোনো স্বাভাবিক সময়ের ঘটনা নয়, বরং সাধারণত অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা বিশেষ প্রয়োজনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংসদের চলমান অধিবেশনে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের এই প্রস্তাবটি করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি দাবি করেন যে, মানুষের কাছে নগদ টাকা থাকা সত্ত্বেও আস্থা না থাকার কারণে তারা তা ব্যাংকে রাখছেন না। এই ঘরে থাকা অর্থ ব্যাংকে ফিরিয়ে আনতেই তিনি নোট দুটি বাতিলের প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে, পুরনো নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এতে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার মতো নোট বৈধ হবে, যা বাজেট ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে এবং অর্থনৈতিক চাকা সচল করবে।
একটি দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানত কালো টাকার সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং তা ব্যাংকিং খাতে যুক্ত করার জন্য ব্যাংক নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, দেশে কালো টাকার পরিমাণ বেশি হলে এবং মানুষের কাছে নগদ অর্থ থাকলে তা ব্যাংকে ঢুকানোর জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কালো টাকার পাশাপাশি জাল নোটের প্রসার রোধেও মুদ্রা বাতিল করা হয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাল টাকার দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে জলছাপবিহীন একাধিক নোট বাতিল করেছিল তৎকালীন সরকার। এছাড়া, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে ২০১৬ সালে ভারত সরকারও ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিল করেছিল।
রিপোর্টারের নাম 
























