ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জের মাইজবাড়ি: বছরে ২২ কোটি টাকার নৌকার বাজার, তবুও ভাগ্য ফেরেনি কারিগরদের

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো নৌকা। আর এই নৌকার চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের কারিগররা। কয়েক যুগ ধরে এই গ্রামের তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নৌকা তৈরির পেশায় নিয়োজিত। প্রতি বছর এই গ্রাম থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকার নৌকা কেনাবেচা হলেও কারিগরদের জীবনমানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

মাইজবাড়ি গ্রামে সারাবছরই বারকি, খিলুয়া ও ডিঙিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা এখানে নৌকা কিনতে আসেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি নৌকা ১২ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে কাঠের সংকট এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারিগররা এখন হিমশিম খাচ্ছেন। পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় অনেকেই মহাজনদের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়ে কাজ করেন, যার ফলে লাভের বড় অংশই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

স্থানীয় প্রবীণ কারিগররা জানান, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। বিসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হলে মাইজবাড়ির এই নৌকা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: লাশ মর্গে রেখে পালালেন স্বামী

সুনামগঞ্জের মাইজবাড়ি: বছরে ২২ কোটি টাকার নৌকার বাজার, তবুও ভাগ্য ফেরেনি কারিগরদের

আপডেট সময় : ১০:০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো নৌকা। আর এই নৌকার চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের কারিগররা। কয়েক যুগ ধরে এই গ্রামের তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নৌকা তৈরির পেশায় নিয়োজিত। প্রতি বছর এই গ্রাম থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকার নৌকা কেনাবেচা হলেও কারিগরদের জীবনমানে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।

মাইজবাড়ি গ্রামে সারাবছরই বারকি, খিলুয়া ও ডিঙিসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরি হয়। সিলেট, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা এখানে নৌকা কিনতে আসেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি নৌকা ১২ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে কাঠের সংকট এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারিগররা এখন হিমশিম খাচ্ছেন। পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় অনেকেই মহাজনদের কাছ থেকে আগাম অর্থ নিয়ে কাজ করেন, যার ফলে লাভের বড় অংশই চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

স্থানীয় প্রবীণ কারিগররা জানান, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও তারা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। বিসিকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সঠিক উদ্যোগ নেওয়া হলে মাইজবাড়ির এই নৌকা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।