ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালির অদূরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বড় ধরনের পতনের দিকে এগোচ্ছে।
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২১ মিনিটের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলার ৪৭ সেন্ট বা ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে ৭৩ ডলার ৭৯ সেন্টে নেমে এসেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১ ডলার ৪৪ সেন্ট বা ২ শতাংশ কমে ৭০ ডলার ৪৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে উভয় জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমতে যাচ্ছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্টা কমোডিটিজ’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক জুন গোহ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং চীনের বাজারে এখনো তেলের চাহিদা না বাড়ায় এই দরপতন দেখা গেছে। এলএসইজি-এর শিপিং তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল শোধনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো দীর্ঘ প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর শুক্রবার পারস্য উপসাগরের রাস তানুরা টার্মিনালে আবারও তেলবোঝাইয়ের কাজ শুরু করেছে। তথ্যে দেখা গেছে, দুটি বিশালাকার ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) টার্মিনালটি থেকে তেল বোঝাই করছে এবং আরেকটি জাহাজ কাছেই অপেক্ষা করছে। এই ধরনের প্রতিটি জাহাজের ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে একটি অজ্ঞাত গোলার আঘাতে একটি পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ওই হামলার পর জাতিসংঘের সামুদ্রিক সংস্থা তাদের স্বেচ্ছামূলক উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে। দু’জন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, জাহাজটি প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করার সময় ইরান সেটির ওপর গুলি চালায়। অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি দেওয়া হবে না। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























