ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নেত্রকোনায় তরুণীকে সাইবার হয়রানি: সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক তরুণীর ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে অনলাইনে অশ্লীলভাবে প্রচার, মানহানিকর মন্তব্য এবং দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগে এক সাবেক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মো. সারোয়ার হোসেন খান (৪০) নামের ওই অভিযুক্তকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সারোয়ার হোসেন খান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডির একটি দল টঙ্গী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, গত বছরের ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। একই সাথে নারীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা-সংক্রান্ত সেলেও অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগের পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডি তাকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ভুক্তভোগী তরুণী তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আমার ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করা হতো। আমার স্বাভাবিক ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আমাকে নিয়মিত হেনস্তা করা হয়েছে। এর ফলে আমার পরিবারের সদস্যদেরও সামাজিকভাবে অপমান ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাই।” তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, “আমি চাই, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নারী এ ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার না হন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় তরুণীকে সাইবার হয়রানি: সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে

নেত্রকোনায় তরুণীকে সাইবার হয়রানি: সাবেক সেনাসদস্য গ্রেপ্তার, কারাগারে

আপডেট সময় : ০২:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক তরুণীর ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে অনলাইনে অশ্লীলভাবে প্রচার, মানহানিকর মন্তব্য এবং দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগে এক সাবেক সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মো. সারোয়ার হোসেন খান (৪০) নামের ওই অভিযুক্তকে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সারোয়ার হোসেন খান সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিআইডির একটি দল টঙ্গী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, গত বছরের ১৪ এপ্রিল ভুক্তভোগী তরুণী মোহনগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। একই সাথে নারীদের জন্য সাইবার সুরক্ষা-সংক্রান্ত সেলেও অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগের পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডি তাকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ভুক্তভোগী তরুণী তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে আমার ছবি অশ্লীলভাবে এডিট করা হতো। আমার স্বাভাবিক ভিডিও বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আমাকে নিয়মিত হেনস্তা করা হয়েছে। এর ফলে আমার পরিবারের সদস্যদেরও সামাজিকভাবে অপমান ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাই।” তিনি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, “আমি চাই, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নারী এ ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার না হন।”