ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে রাজধানী ঢাকার বনানীতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স। শুক্রবার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অভিযানকালে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা করা বা শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ কাজে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ছাদ, আঙিনা, বেসমেন্ট, ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা, পুরোনো টায়ার কিংবা যেকোনো পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। প্রতি তিন দিন পরপর জমে থাকা পানি ফেলে দিতে হবে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা না ফেলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয় থেকে নাগরিকরা বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি নিজ উদ্যোগে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে জমে থাকা পানিতে লার্ভা ধ্বংসের আহ্বান জানান।
তিনি গণমাধ্যমকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার আরও জোরদারের অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, বর্ষা মৌসুম উপলক্ষে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন বাসাবাড়ি, বিভিন্ন স্থাপনা ও রেস্টুরেন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ওষুধ ছিটানো এবং লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানীর সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগজনক।
রিপোর্টারের নাম 
























