ঢাকা ০১:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

কেরানীগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে ফল, চা, কনফেকশনারি, ফ্লেক্সিলোড, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, দোকানের ধরন অনুযায়ী দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে এই চাঁদা আদায় করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং অন্যান্য দোকান থেকে মাসে তিন থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা আদায়ের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লা, দক্ষিণ থানা ছাত্রদলের সদস্য নীরব, তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল, ছাত্রদলকর্মী সুমন মোল্লা, খাইরুল ইসলাম, সিয়ামসহ প্রায় ১০-১২ জন জড়িত বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি একটি হোটেল বন্ধ করে দিয়ে এর মালিককে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন দোকান থেকে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার অনুসারী এবং তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল চাঁদা দাবি করছেন। ‘অতিথি ভোজন অ্যান্ড বিরিয়ানি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে ওই ব্যবসায়ী মাসিক ১০ হাজার টাকা করে আবির মোল্লা পায়েলকে দিয়ে আসছেন। এছাড়া, গত ৫ আগস্টের পর এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা পাভেল মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার কর্মী ডিকে বাপ্পিকে পরবর্তীতে ওই হোটেলে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং মূল ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, রাজেন্দ্রপুরের একটি বেকারি দোকান থেকে ছাত্রদলকর্মী সিয়াম প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। পুরির হোটেল থেকেও পাঁচ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা: সত্য ও মিথ্যার এক অসম লড়াইয়ের ইতিহাস

কেরানীগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৩৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে ফল, চা, কনফেকশনারি, ফ্লেক্সিলোড, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, দোকানের ধরন অনুযায়ী দৈনিক ও মাসিক ভিত্তিতে এই চাঁদা আদায় করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং অন্যান্য দোকান থেকে মাসে তিন থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা আদায়ের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লা, দক্ষিণ থানা ছাত্রদলের সদস্য নীরব, তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল, ছাত্রদলকর্মী সুমন মোল্লা, খাইরুল ইসলাম, সিয়ামসহ প্রায় ১০-১২ জন জড়িত বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এমনকি একটি হোটেল বন্ধ করে দিয়ে এর মালিককে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন দোকান থেকে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার অনুসারী এবং তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল চাঁদা দাবি করছেন। ‘অতিথি ভোজন অ্যান্ড বিরিয়ানি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে ওই ব্যবসায়ী মাসিক ১০ হাজার টাকা করে আবির মোল্লা পায়েলকে দিয়ে আসছেন। এছাড়া, গত ৫ আগস্টের পর এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা পাভেল মোল্লার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার কর্মী ডিকে বাপ্পিকে পরবর্তীতে ওই হোটেলে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং মূল ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে দোকান ছেড়ে গ্রামের বাড়ি চলে যান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও অভিযোগ করেন, রাজেন্দ্রপুরের একটি বেকারি দোকান থেকে ছাত্রদলকর্মী সিয়াম প্রতি মাসে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেন। পুরির হোটেল থেকেও পাঁচ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।