ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা আকবর নামে এক দরিদ্র মুসলিমের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী উগ্র হিন্দুদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর অসহনীয় জীবনযাত্রার এক মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরেছে। একই জেলার মাইমুর নামে আরেক মুসলিম উগ্রবাদী হিন্দুদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন।
ভীতসন্ত্রস্ত মাইমুর তার ওপর হওয়া হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, হামলার সময় তিনি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলেন। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে তাকে ধাওয়া করা হচ্ছিল এবং কোথায় লুকাবেন তা বুঝতে পারছিলেন না। থানায় আশ্রয় নিতে গিয়েও তিনি পুলিশের কাছ থেকে সহায়তা পাননি, বরং গরু পাচার মামলার আসামি বানিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনা ভারতে মুসলিম পরিচয়ে বেঁচে থাকা যে এক বড় অপরাধ, সেই ধারণাকেই শক্তিশালী করে।
মাইনুরের মতো ভারতের ২৫ কোটি মুসলিম বর্তমানে চরম হতাশা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কখন হিন্দু জঙ্গিদের হাতে তাদের জীবন কেড়ে নেওয়া হবে, সেই ভয়ে তারা দিনরাত ভীত থাকেন। অনেকের শেষ আশ্রয় বা বেঁচে থাকার অবলম্বনটুকুও উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনগুলোর হাতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, অর্থাৎ মুসলিমদের উপর নির্যাতন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তথাকথিত গোরক্ষা গোষ্ঠী এবং অন্যান্য উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও তারা হত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ২৭ জন মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অনেক রাজ্যে তাদের বাড়িঘর ও দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, দরগা এবং কবরস্থানগুলোও টার্গেটে পরিণত হয়েছে। গত দেড় মাসে অন্তত ২৩টি ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা, জনসমাগমে নামাজ আদায় বা মসজিদের মাইক ব্যবহারের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়গুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক গভীর ভীতি তৈরি হয়েছে। এই সকল ঘটনা দেশের রাজনীতিতে মুসলিমদের অবস্থানকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























