কোটচাঁদপুরের আলোচিত হুন্ডি ব্যবসায়ী ও প্রতারক ফারুক আহমেদ কাজল ওরফে হুন্ডি কাজল ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। তিনি হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে অসংখ্য মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছিলেন।
সূত্র জানায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজল আহমেদ ৯০-এর দশকের প্রথম থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এলাকায় একচেটিয়া হুন্ডি ও অবৈধ ব্যক্তিগত ব্যাংকিং ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি অধিক মুনাফা এবং অল্প দিনে কোটিপতি হওয়ার লোভ দেখিয়ে কোটচাঁদপুর, মহেশপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রথমদিকে গ্রাহকদের নিয়মিত লভ্যাংশ দিলেও একপর্যায়ে তিনি বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেন। প্রতারক কাজল মূলত অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার পাশাপাশি পঞ্জি স্কিম বা প্রতারণামূলক মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
তার এই প্রতারণার শিকার হয়ে শত শত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রতারিত গ্রাহকদের অনেকেই পাওনা টাকার শোকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। টাকা আত্মসাতের পর ভুক্তভোগীরা কাজলের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। একপর্যায়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনি জটিলতা ও পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে গোপনে জামিন নিয়ে জেলখানা থেকে বের হয়ে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই আত্মগোপন করে ছিলেন। হুন্ডি কাজলের মৃত্যুর খবর কোটচাঁদপুরে পৌঁছালে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























