ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিএম কলেজে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের জেরে উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

বরিশাল বিএম কলেজ ডিগ্রি হোস্টেলের ছাত্র এবং কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ছাত্রদলের অপর একটি অংশ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনেছে, যা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের জিয়া সড়কে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব আল আমিন মৃধার মধ্যে আকস্মিক হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার রেশ ধরে সন্ধ্যার পর আল আমিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অশ্বিনী কুমার হলে অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা সেখানে রাতুলসহ হলের সাধারণ ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করেন বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।

হলের ভেতর মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ওই দিন সন্ধ্যার পর ছাত্রাবাস থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে কলেজ সংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আল আমিন মৃধার পক্ষে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হাসান তাসনিমের নেতৃত্বে আরেকটি পক্ষ বিশাল মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তারা সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকা ছাত্রদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ছাত্রদের অভিযোগ, তাসনিমের নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে তাদের বেধড়ক পেটানো হয়।

তবে ছাত্রদের মারধরের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হাসান তাসনিম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন মাত্র, কাউকে মারধর করা হয়নি। এদিকে, বিএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জিরো পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদপত্র যেন রাষ্ট্রবিরোধী বা দলীয় মুখপাত্র না হয়: মাহমুদুর রহমান

বিএম কলেজে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের জেরে উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বরিশাল বিএম কলেজ ডিগ্রি হোস্টেলের ছাত্র এবং কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুলসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ছাত্রদলের অপর একটি অংশ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা ও মারধরের অভিযোগ এনেছে, যা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের জিয়া সড়কে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব আল আমিন মৃধার মধ্যে আকস্মিক হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনার রেশ ধরে সন্ধ্যার পর আল আমিনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রদল কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অশ্বিনী কুমার হলে অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা সেখানে রাতুলসহ হলের সাধারণ ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করেন বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন।

হলের ভেতর মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ওই দিন সন্ধ্যার পর ছাত্রাবাস থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে বের হয়ে কলেজ সংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব আল আমিন মৃধার পক্ষে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হাসান তাসনিমের নেতৃত্বে আরেকটি পক্ষ বিশাল মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তারা সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকা ছাত্রদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ছাত্রদের অভিযোগ, তাসনিমের নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে তাদের বেধড়ক পেটানো হয়।

তবে ছাত্রদের মারধরের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি এনামুল হাসান তাসনিম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন মাত্র, কাউকে মারধর করা হয়নি। এদিকে, বিএম কলেজ ছাত্রদলের নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জিরো পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে।