দেশবরেণ্য সাংবাদিক, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক দিনকাল-এর সাবেক সম্পাদক মরহুম আখতার-উল-আলমকে এক নির্ভীক সাংবাদিক ও কূটনীতিতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত এক স্মরণসভায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এই মন্তব্য করেন।
ড. মঈন খান বলেন, বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া-নির্ভর যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকলেও, পূর্বের সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ করতেন। বিশেষ করে যারা নির্ভীক ও সত্যের পথে অবিচল ছিলেন, তাদের জন্য ছদ্মনাম ব্যবহার করাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। আখতার-উল-আলম তাই ‘লুব্ধক’ ছদ্মনাম বেছে নিয়েছিলেন, যা মহাকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার লেখনীও ছিল তেমনি দীপ্তিময় ও উজ্জ্বল।
মুক্তিযুদ্ধে আখতার-উল-আলমের আপসহীন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ড. মঈন খান বলেন, পাক হানাদার বাহিনী যখন এদেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন তিনি সাহসিকতার সাথে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং এই কারণে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দিও থাকতে হয়েছিল। তিনি ছিলেন আপসহীন এবং সর্বদা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
আখতার-উল-আলমের বহুমুখী প্রতিভার কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, তিনি শুধু সাংবাদিকতাই নয়, কূটনীতিতেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে তার গভীর পাণ্ডিত্য ছিল, যা তার লেখনীর মাধ্যমে বারবার ফুটে উঠেছে। এছাড়া তিনি ৩৩টি গবেষণাধর্মী ও মৌলিক গ্রন্থের রচয়িতা ও অনুবাদক ছিলেন। নতুন প্রজন্মের কাছে তার মতো আদর্শবান সাংবাদিকদের জীবনী তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আখতার-উল-আলম ছিলেন সাংবাদিকতা ও জীবনদর্শনের এক ধ্রুবতারা। তার ভাষা ছিল অত্যন্ত ঝরঝরে, সাবলীল এবং গতিশীল, যা পাঠককে সহজেই আকর্ষণ করত।
রিপোর্টারের নাম 




















