প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে, যা দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সমন্বয় সম্পন্ন করার পর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ইউনিট থেকে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ২০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটিও সচল রয়েছে, যা থেকে গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। ফলে প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও স্থিতিশীল হবে।
অন্যদিকে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন, খনিতে উৎপাদিত কয়লা সংরক্ষণে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প স্থানে কয়লা মজুতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে বাজারজাত করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আশেপাশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা খনিতে উৎপাদিত কয়লার ব্যবহার বাড়াবে এবং সংরক্ষণজনিত চাপ কমাবে।
তৃতীয় ইউনিট পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















