ঢাকা ১২:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ভারতীয় মিডিয়ার মিশ্র প্রতিক্রিয়া

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর চীনে এটিই হবে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর এবং তিনি দালিয়ানে ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সভাতেও অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ত ও সারগর্ভ সফরসূচি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ারই প্রতিফলন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে চীন ও বাংলাদেশ একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক গভীর রাজনৈতিক আস্থার ভিত্তি এবং সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাহ্যিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব থেকে উদ্ভূত একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে এ দেশের অর্থনীতি। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পবৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ঘাটতি পূরণ করা—এসবই দেশের জন্য জরুরি অগ্রাধিকার। চীন টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এগুলো সম্মিলিতভাবে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চীন বাংলাদেশের জন্য শতভাগ ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে, যা দেশটির কৃষি রপ্তানিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারেক রহমানের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা, বাণিজ্য সহজীকরণ ও কৌশলগত সংলাপ। এটি চীন ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গভীরতর সহযোগিতার একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হিসেবেও কাজ করে।

চলতি মাসেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চীনে রাষ্ট্রীয় সফরকালে রাজধানী বেইজিং ছাড়াও সাংহাই এবং হাংজু নগরী পরিদর্শন করেন। তাঁর এই সফরকালে উভয় দেশ একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎসহ চীন-মিয়ানমার কমিউনিটি গঠনে গতি আনার বিষয়ে যৌথ বিবৃতি প্রদান করে। গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীন সফর করেন এবং উভয় দেশের নেতারা নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎমুখী আরো ঘনিষ্ঠ চীন-পাকিস্তান সম্প্রদায় গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় অগ্রগতি অর্জনে সম্মত হয়েছেন।

এছাড়া, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালির চীন সফরও এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফরগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করছে, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করছে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রভাব মূল্যায়নের চেষ্টা করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল: জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: ভারতীয় মিডিয়ার মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ১১:১৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত চীন সফর করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর চীনে এটিই হবে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর এবং তিনি দালিয়ানে ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সভাতেও অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যস্ত ও সারগর্ভ সফরসূচি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ারই প্রতিফলন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকালে চীন ও বাংলাদেশ একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক গভীর রাজনৈতিক আস্থার ভিত্তি এবং সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাহ্যিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব থেকে উদ্ভূত একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে এ দেশের অর্থনীতি। আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পবৈচিত্র্যকরণকে উৎসাহিত করা এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ঘাটতি পূরণ করা—এসবই দেশের জন্য জরুরি অগ্রাধিকার। চীন টানা ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটিতে প্রায় এক হাজার চীনা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এগুলো সম্মিলিতভাবে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে চীন বাংলাদেশের জন্য শতভাগ ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করেছে, যা দেশটির কৃষি রপ্তানিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারেক রহমানের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অবকাঠামোগত সহযোগিতা, বাণিজ্য সহজীকরণ ও কৌশলগত সংলাপ। এটি চীন ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গভীরতর সহযোগিতার একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি হিসেবেও কাজ করে।

চলতি মাসেই মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চীনে রাষ্ট্রীয় সফরকালে রাজধানী বেইজিং ছাড়াও সাংহাই এবং হাংজু নগরী পরিদর্শন করেন। তাঁর এই সফরকালে উভয় দেশ একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎসহ চীন-মিয়ানমার কমিউনিটি গঠনে গতি আনার বিষয়ে যৌথ বিবৃতি প্রদান করে। গত মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীন সফর করেন এবং উভয় দেশের নেতারা নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎমুখী আরো ঘনিষ্ঠ চীন-পাকিস্তান সম্প্রদায় গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় অগ্রগতি অর্জনে সম্মত হয়েছেন।

এছাড়া, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালির চীন সফরও এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। এই সফরগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করছে, যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে তাদের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করছে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রভাব মূল্যায়নের চেষ্টা করছে।