ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১৮

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে একটি পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে। ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক সংঘর্ষ হয়, যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমানের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান দাবি করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবারের মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যেখানে তার অন্তত ১০ জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংঘর্ষের পর থেকে বোয়ালিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আসিত কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা কলেজ মসজিদে এসি অচল দুই মাস, তীব্র গরমে দুর্ভোগে মুসল্লিরা

ঝিনাইদহে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১৮

আপডেট সময় : ০৭:২২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে একটি পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে। ওই বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক সংঘর্ষ হয়, যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমানের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের সমর্থকদের সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান দাবি করেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবারের মাছ ধরা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যেখানে তার অন্তত ১০ জন সমর্থক আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

সংঘর্ষের পর থেকে বোয়ালিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আসিত কুমার রায় জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।