ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

হিন্দুত্ববাদী উসকানিমূলক বক্তব্য ও মূর্তি স্থাপনের প্রতিবাদে পূর্বধলায় মানববন্ধন: ‘দেশের শান্তি বিঘ্নিত হতে দেব না’

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির স্থাপনের অংশ হিসেবে বিশাল রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ এবং দেশব্যাপী হিন্দুত্ববাদী উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে নেত্রকোণার পূর্বধলায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে “তৌহিদী জনতা, পূর্বধলা”-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-উলামা, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড জনগণ মেনে নেবে না। তারা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। বক্তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব, আধিপত্যবাদী নীতি বা উসকানির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ণের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইসলাম ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ইসলাম নিরপরাধ মানুষের ওপর অন্যায়, নির্যাতন, বৈষম্য কিংবা নিপীড়ন সমর্থন করে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব বলেও তারা গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে হাফেজ শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আলমগীর হোসাইন মিসবাহ, মাওলানা আমিনুল হক লিমন, মাওলানা সাইফুর রহমান সাদী, মুফতি রেদুয়ান হোসাইন ও মাওলানা ইলিয়াস হোসাইনসহ স্থানীয় আলেম-উলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি যেকোনো উসকানি, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং বিদেশি প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে চাঁদাবাজির তাণ্ডব: মোহাম্মদপুরসহ একাধিক এলাকা আতঙ্কের জনপদ, সক্রিয় অর্ধশত চক্র

হিন্দুত্ববাদী উসকানিমূলক বক্তব্য ও মূর্তি স্থাপনের প্রতিবাদে পূর্বধলায় মানববন্ধন: ‘দেশের শান্তি বিঘ্নিত হতে দেব না’

আপডেট সময় : ০৯:০৩:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির স্থাপনের অংশ হিসেবে বিশাল রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ এবং দেশব্যাপী হিন্দুত্ববাদী উসকানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে নেত্রকোণার পূর্বধলায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে “তৌহিদী জনতা, পূর্বধলা”-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-উলামা, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড জনগণ মেনে নেবে না। তারা গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। বক্তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাব, আধিপত্যবাদী নীতি বা উসকানির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ণের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ইসলাম ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দেয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ইসলাম নিরপরাধ মানুষের ওপর অন্যায়, নির্যাতন, বৈষম্য কিংবা নিপীড়ন সমর্থন করে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব বলেও তারা গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে হাফেজ শফিকুল ইসলাম, মাওলানা আলমগীর হোসাইন মিসবাহ, মাওলানা আমিনুল হক লিমন, মাওলানা সাইফুর রহমান সাদী, মুফতি রেদুয়ান হোসাইন ও মাওলানা ইলিয়াস হোসাইনসহ স্থানীয় আলেম-উলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি যেকোনো উসকানি, সহিংসতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা এবং বিদেশি প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।