ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে একটি পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বজলুর রহমানের ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে পুনরায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের সমর্থক ও একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য এবং বিএনপি নেতা মশিউর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুর রহমান জানিয়েছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধের জেরে এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, শুক্রবার মাছ ধরা নিয়ে একটি সংঘর্ষের পর শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, এতে তার অন্তত ১০ জন সমর্থক আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পর থেকে বোয়ালিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হরিণাকুন্ডু থানার ওসি (তদন্ত) আসিত কুমার রায় জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















