ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের নেপথ্য কারণ

পশ্চিমবঙ্গে সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে ২০ জুন পালিত হচ্ছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি’ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উদযাপন করছে। তবে, এই দিনটি পালনের চল পাঁচ বছর আগেও ছিল না।

পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতি ছিল, বাংলা ভাগ হওয়া কোনো উদযাপনের বিষয় নয়। কারণ দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং প্রিয়জন হারিয়েছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই ২০ জুনের পরিবর্তে পহেলা বৈশাখকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০ জুনকেই সরকারিভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় অবিভক্ত বাংলা ভাগ হবে কিনা, তা নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিরা আলাদাভাবে ভোট দেন। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের অধিকাংশই বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনপ্রতিনিধিরা এর পক্ষে ভোট দেন। এর ফলেই সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলার পূর্বাংশ পাকিস্তানে যাবে এবং পশ্চিমাংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির দিন হিসেবে গণ্য করে। আরএসএসের ইতিহাসবিদ রবি রঞ্জন সেনের মতে, এই দিনটিকে বাংলা ভাগের দিন হিসেবে না দেখে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও তার ভারতভুক্তির দিন হিসেবে দেখা উচিত।

‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড’ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভূমিকা: স্বাধীনতার আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কংগ্রেস নেতা শরৎ চন্দ্র বসু বাংলাকে ভাগ না করে একটি স্বাধীন ‘যুক্তবঙ্গ’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। হিন্দু মহাসভার নেতা ও জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। জওহরলাল নেহেরু ও বল্লভভাই প্যাটেলও এর বিরোধী ছিলেন। বিজেপি ও আরএসএস শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ বলে মনে করে। বিজেপির দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর লড়াইয়ের কারণেই বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের জীবন সুরক্ষিত করার জন্য একটি ‘হোমল্

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেদী হত্যায় বিচার দাবিতে রামগঞ্জে সহপাঠীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের নেপথ্য কারণ

আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে ২০ জুন পালিত হচ্ছে। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি’ এবং ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঐতিহাসিক দিন হিসেবে উদযাপন করছে। তবে, এই দিনটি পালনের চল পাঁচ বছর আগেও ছিল না।

পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতি ছিল, বাংলা ভাগ হওয়া কোনো উদযাপনের বিষয় নয়। কারণ দেশভাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং প্রিয়জন হারিয়েছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই ২০ জুনের পরিবর্তে পহেলা বৈশাখকেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০ জুনকেই সরকারিভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় অবিভক্ত বাংলা ভাগ হবে কিনা, তা নিয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গ এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিরা আলাদাভাবে ভোট দেন। পূর্ববঙ্গের মুসলিম নেতাদের অধিকাংশই বাংলা ভাগের বিপক্ষে ভোট দিলেও, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু জনপ্রতিনিধিরা এর পক্ষে ভোট দেন। এর ফলেই সিদ্ধান্ত হয় যে বাংলার পূর্বাংশ পাকিস্তানে যাবে এবং পশ্চিমাংশ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির দিন হিসেবে গণ্য করে। আরএসএসের ইতিহাসবিদ রবি রঞ্জন সেনের মতে, এই দিনটিকে বাংলা ভাগের দিন হিসেবে না দেখে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি ও তার ভারতভুক্তির দিন হিসেবে দেখা উচিত।

‘বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড’ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ভূমিকা: স্বাধীনতার আগে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং কংগ্রেস নেতা শরৎ চন্দ্র বসু বাংলাকে ভাগ না করে একটি স্বাধীন ‘যুক্তবঙ্গ’ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। হিন্দু মহাসভার নেতা ও জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেন। জওহরলাল নেহেরু ও বল্লভভাই প্যাটেলও এর বিরোধী ছিলেন। বিজেপি ও আরএসএস শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে ‘পশ্চিমবঙ্গের জনক’ বলে মনে করে। বিজেপির দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর লড়াইয়ের কারণেই বাঙালি হিন্দুরা নিজেদের জীবন সুরক্ষিত করার জন্য একটি ‘হোমল্