ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বলিভিয়ায় চরম উত্তেজনা: ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি ও রাজপথে সেনা মোতায়েন

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া সড়ক অবরোধ সরাতে রাজপথে সেনাবাহিনী ও বুলডোজার নামানো হয়েছে।

গত ছয় সপ্তাহ ধরে শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন এবং কোকা চাষিরা দেশটির বিভিন্ন শহরে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কগুলোতে পাথর ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় দেশটির অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার ভোরে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ সতর্ক করে বলেন, যারা জনজীবন অচল করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি অবস্থার আওতায় নাগরিকদের সভা-সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরপরই এল আলতো শহরে সেনা ও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অবরুদ্ধ শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের একাংশ। দীর্ঘ প্রায় ৫০ দিন পর যাতায়াত ও বাজারঘাট খোলার আশায় অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই দশকের মধ্যে বলিভিয়ার বর্তমান অ-সমাজতান্ত্রিক সরকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দরপতন, দেশে কমবে কবে?

বলিভিয়ায় চরম উত্তেজনা: ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি ও রাজপথে সেনা মোতায়েন

আপডেট সময় : ০১:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দেওয়া সড়ক অবরোধ সরাতে রাজপথে সেনাবাহিনী ও বুলডোজার নামানো হয়েছে।

গত ছয় সপ্তাহ ধরে শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন এবং কোকা চাষিরা দেশটির বিভিন্ন শহরে জোরালো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কগুলোতে পাথর ও গাছের গুঁড়ি ফেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় দেশটির অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার ভোরে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ সতর্ক করে বলেন, যারা জনজীবন অচল করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরুরি অবস্থার আওতায় নাগরিকদের সভা-সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ঘোষণার পরপরই এল আলতো শহরে সেনা ও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অবরুদ্ধ শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের একাংশ। দীর্ঘ প্রায় ৫০ দিন পর যাতায়াত ও বাজারঘাট খোলার আশায় অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই দশকের মধ্যে বলিভিয়ার বর্তমান অ-সমাজতান্ত্রিক সরকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।