সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বলেছেন, গত ২০ বছরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে দলীয়করণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের সংস্কৃতি তার স্বাভাবিক ও নিজস্ব বিকাশের সুযোগ হারিয়েছে। বিভিন্নভাবে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও শক্ত ভিত্তির ওপর গড়ে উঠতে পারেনি।
শনিবার রাতে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নদীমাতৃক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি একটি জাতির ঐতিহ্য, চেতনা ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গন নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ছিল। বিশেষ করে অধিকাংশ জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, অবকাঠামো এবং কার্যকর কর্মসূচির যথেষ্ট অভাব ছিল।
তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে পুনর্গঠন করে সাধারণ মানুষের সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের সে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা চাই সংস্কৃতি শুধু কিছু গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জনগণের জীবনের অংশ হয়ে উঠুক। বর্তমান সময়ে সুস্থ, সুন্দর ও সাবলীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার, শিল্পীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন শিল্পী তৈরির উদ্যোগ। তিনি বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও শক্তিশালী করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি শিল্পীদের বিকাশের জন্য একটি কার্যকর পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।
রিপোর্টারের নাম 























