বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনপূর্ব সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা যে সংস্কার উদ্যোগের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ সরে এসেছেন। তিনি বলেন, এখন তারা গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করছেন, যা জনগণের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
খুলনায় শনিবার (২০ জুন) ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার এই মন্তব্য করেন। প্রেস ব্রিফিংটি অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন শুধু জামায়াত-এনসিপি বা ১১ দলের দাবি নয়, বরং দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যারা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, এটি সংসদেই সমাধানযোগ্য বিষয় হলেও এটিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাজপথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার না করে কেবল সীমিত সংশোধনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করা, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব চালু করা, বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক পদে নিরপেক্ষ নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলো থেকে বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলো সরে যাচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে যিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, তিনি আবারও একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েম করতে পারেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হলেও নতুন সরকারে দলীয়করণের ধারা বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষায়, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে, অথচ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে খুলনার পরিস্থিতি তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























