ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটে শিশু হত্যায় বাবা-ছেলে কারাগারে, জবানবন্দি দিয়েছেন ছেলে

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ৭ বছরের এক শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাবা রঞ্জিত কুমার (৪২) ও তার ছেলে বিধান চন্দ্রকে (২০) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে নিহত শিশুর বাবা রঞ্জিত কুমার ও তার ছেলে বিধানকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পরে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এই মামলায় রঞ্জিত কুমারের স্ত্রী মমতা রানীকেও (৩৮) আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ওই শিশুর বড় ভাইয়ের সঙ্গে নলকূপের পানি প্রবাহ নিয়ে বিধান চন্দ্রের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধের জের ধরেই বিধান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রকে নিজ বাড়ি থেকে এবং তার বাবা রঞ্জিতকে পাশের একটি বাড়ি থেকে আটক করে। তাদের আটকের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা পরবর্তীতে বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের রূপ নেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় স্থানীয়দের হামলায় পুলিশ সুপার, ওসিসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন এবং বিক্ষুব্ধরা ডিসি ও এসপির গাড়িসহ সরকারি সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার পরপরই আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয় এবং সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজীবকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বাদী হয়ে বিধান, তার বাবা রণজিৎ ও মা মমতা রানীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

লালমনিরহাটে শিশু হত্যায় বাবা-ছেলে কারাগারে, জবানবন্দি দিয়েছেন ছেলে

আপডেট সময় : ১২:১৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ৭ বছরের এক শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাবা রঞ্জিত কুমার (৪২) ও তার ছেলে বিধান চন্দ্রকে (২০) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে নিহত শিশুর বাবা রঞ্জিত কুমার ও তার ছেলে বিধানকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। পরে তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এই মামলায় রঞ্জিত কুমারের স্ত্রী মমতা রানীকেও (৩৮) আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে ওই শিশুর বড় ভাইয়ের সঙ্গে নলকূপের পানি প্রবাহ নিয়ে বিধান চন্দ্রের কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধের জের ধরেই বিধান এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত বিধান চন্দ্রকে নিজ বাড়ি থেকে এবং তার বাবা রঞ্জিতকে পাশের একটি বাড়ি থেকে আটক করে। তাদের আটকের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা পরবর্তীতে বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের রূপ নেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আসামিদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় স্থানীয়দের হামলায় পুলিশ সুপার, ওসিসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন এবং বিক্ষুব্ধরা ডিসি ও এসপির গাড়িসহ সরকারি সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার পরপরই আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হককে প্রত্যাহার করা হয় এবং সদর থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুস সাকিব সজীবকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিহত নন্দিনীর বাবা নলিনী কান্ত বাদী হয়ে বিধান, তার বাবা রণজিৎ ও মা মমতা রানীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।