ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত

দেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি’ মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় তদন্তের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবশেষে দেড়শ পৃষ্ঠার একটি খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে। সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি আইনি পরামর্শের জন্য এই খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খসড়া এই অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আতিউর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশের আরও ৯ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নাগরিক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এবং তিনি বর্তমানে পলাতক।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই মামলার তদন্তভার পরিচালনা করছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় আইনি মতামত ও সবুজ সংকেত পেলেই আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

প্রস্তুতকৃত খসড়া তালিকায় বাংলাদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা। এছাড়া কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ নামের আরও তিন বাংলাদেশির নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে দেখা গেছে, এই আন্তর্জাতিক চুরির নেপথ্যে একটি সুবিন্যস্ত বিদেশি চক্র কাজ করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের নাগরিক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানার নাম উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাকেশ আস্থানাকে প্রধান করে একটি ফরেনসিক অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং ওই অডিটের আড়ালে তথ্য গোপন করা হয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছেন শর্বরী ও সানি!

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: সাবেক গভর্নর আতিউরসহ ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রস্তুত

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

দেশের ইতিহাসের অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি’ মামলার তদন্তে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় তদন্তের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) অবশেষে দেড়শ পৃষ্ঠার একটি খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে। সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি আইনি পরামর্শের জন্য এই খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খসড়া এই অভিযোগপত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আতিউর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশের আরও ৯ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও নাগরিক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এত বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানের বিরুদ্ধে এবং তিনি বর্তমানে পলাতক।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম শাখার অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই মামলার তদন্তভার পরিচালনা করছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় আইনি মতামত ও সবুজ সংকেত পেলেই আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

প্রস্তুতকৃত খসড়া তালিকায় বাংলাদেশি অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা। এছাড়া কে এম আব্দুল ওয়াদুদ, রেজাউল করিম ও মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ নামের আরও তিন বাংলাদেশির নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তে দেখা গেছে, এই আন্তর্জাতিক চুরির নেপথ্যে একটি সুবিন্যস্ত বিদেশি চক্র কাজ করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতের নাগরিক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন আইটি উপদেষ্টা রাকেশ আস্থানার নাম উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাকেশ আস্থানাকে প্রধান করে একটি ফরেনসিক অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং ওই অডিটের আড়ালে তথ্য গোপন করা হয়েছিল।