ঢাকা: দেশের ৮৭ হাজার গ্রামে গতিশীল ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকার ফাইবার অপটিক্যাল লাইন মাটির নিচে স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বিভিন্ন টানাপোড়েনের কারণে বর্তমানে আটকে আছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ‘টাইগার প্রজেক্ট’ নামে শুরু হওয়া প্রকল্পটি পরবর্তীতে ‘ডি-স্টার’ বা ‘ডিজিটাল স্টার’ নামে পরিচিতি লাভ করে। প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা (৩০০ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ ধরা হলেও, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করলেও এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং গ্রামভিত্তিক ফাইবার ক্যানেক্টিভিটি স্থাপন করে পুরো দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরিত করা। এতে গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা পেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে। প্রকল্পের আওতায় ওয়াইফাই, রেডিও কমিউনিকেশন ও স্যাটেলাইট সংযোগও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই মোবাইল অপারেটর ও ফাইবার ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বিমুখী দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মোবাইল অপারেটররা সরাসরি ফাইবার সংযোগের পরিবর্তে প্রতিটি টাওয়ারে স্পেকট্রাম সরবরাহের দাবি জানাচ্ছে, যা সেবার পরিধি বাড়াবে বলে তাদের মত। অন্যদিকে, ফাইবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেহেতু গ্রাম পর্যায়ের ক্যানেক্টিভিটি তৈরির জন্য এই প্রকল্প, তাই সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার লাইন সংযোগ দেওয়া হলে প্রকল্পটি মানসম্মত হবে। এই দ্বিমুখী সংঘাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটি আটকে আছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিতে দুপক্ষই চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই অব্যাহত থাকলেও, এই অচলাবস্থা প্রকল্পের সুফল প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করছে। ফাইবার বিশেষজ্ঞরা মাটির নিচ দিয়ে ফাইবার লাইন নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছেন, যা সবচেয়ে ভালো সমাধান বলে তারা মনে করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























