রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোকড়াকুল মৌজায় জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে একটি আদিবাসী পরিবারের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রমতে, গত ১২ জুন বেলা ১১টার দিকে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে ধোকড়াকুল এলাকার একটি আদিবাসী পরিবারে আক্রমণ চালায়। হামলাকারীরা শুধু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা, পুকুরের মাছ ধরে নেওয়া এবং বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, হামলাকালে ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারও লুট করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী রাসন্তি বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে আমাদের পৈতৃক জমিতে বসবাস করছি। হঠাৎ করেই তারা এসে আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেয় এবং যা ছিল সব নিয়ে যায়। এখন আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।’ একই ধরনের অভিযোগ করেন কাকলী নামে আরেক ভুক্তভোগী। তিনি জানান, জমি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ সরাসরি হামলা চালিয়েছে এবং তাদের বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, হামলার সময় তিনি ও তার মেয়ে বাড়িতে ছিলেন এবং আক্রমণকারীরা কোনো কথা না শুনেই ভাঙচুর শুরু করে এবং জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বাবলু সরকারের দাবি, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ধোকড়াকুল মৌজার জে.এল. নম্বর ২০৩-এর হাল দাগ নম্বর ৩১৭১ ও ৩১৫৭-এর মোট ৩৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগকারী সেলিনা সরকারের দাবি, তার দাদা শ্রী আকালু সরকার এবং পরে তার বাবা ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে এসেছেন এবং বর্তমানে বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে তারাই জমির মালিক। সেলিনার অভিযোগ, পূর্বে বিক্রি হওয়া জমির মালিকানা দাবি করে প্রতিপক্ষ বারবার বিরোধ সৃষ্টি করছে এবং গত ১২ জুন তারা সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে বসতঘর ভেঙে ফেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ঘরে থাকা প্রায় এক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























