টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শিশু হাফিজা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার চার মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় এবং মূল রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় হাফিজার বাবা-মা ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও এখনো এসে পৌঁছায়নি।
মামলার বাদী ও হাফিজার বাবা সোহেল এবং মা চায়না বেগম গত শনিবার মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে তাদের এই হতাশা ব্যক্ত করেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের সন্তানের দ্রুত বিচার চেয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি, তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রী হাফিজার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খেলাধুলার জন্য বাড়ির সামনের মাঠে যাওয়ার পর হাফিজা নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর, ১৩ ফেব্রুয়ারি কদিম দেওহাটা এলাকার ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তির তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর থেকে হাফিজার হাত-পা বাঁধা ও বিবস্ত্র অর্ধগলিত লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পরিবারের সদস্যরা হাফিজার পরিচয় নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
হাফিজা উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে এবং দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। হাফিজার বাবা সোহেল পেশায় গার্মেন্টস কর্মী এবং পরিবার নিয়ে কদিম দেওহাটা গ্রামের মাজাহারুল ইসলামের ভাড়া বাসায় থাকতেন।
শিশু হাফিজার বাবা সোহেল অভিযোগ করেন, পুলিশি তৎপরতার অভাব রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টও এখনো আসেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, মহাখালী থেকে ভিসেরা এবং টাঙ্গাইল থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় আছেন তারা। হাফিজার খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জনতার হাতে আটক এবং বর্তমানে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা সাজিদকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেনি।
রিপোর্টারের নাম 























