সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্ত এলাকায় এক বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) তাকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং লাশ গুম করে রেখেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনো বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই যুবক নিখোঁজ হওয়ার জেরে গত মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী কিন্নখাল ৩১নং বিওপি সংলগ্ন জিরোলাইন থেকে এক ভারতীয় কৃষককে ‘তুলে নিয়ে আসেন’ বাংলাদেশিরা, যা দুই দেশের সীমান্তবর্তী লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
পরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রঞ্জিত দাস নামের ওই ভারতীয় নাগরিককে উত্তরকুল সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। নিখোঁজ ডিপজল আহমদ বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে বিজিবি জানিয়েছে, তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, গত রোববার রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে এবং গুলি চালায়। এ সময় ডিপজলের সাথে থাকা অন্যরা পালিয়ে দেশে ফিরতে পারলেও ডিপজল নিখোঁজ হন। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, বিএসএফের গুলিতে ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মুকিত বলেন, ‘চারজন যুবক সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে। যারা পালিয়ে আসতে পেরেছেন তারা দাবি করছেন, নিখোঁজ যুবককে গুলি করে মরদেহ আটকে রেখেছে বিএসএফ।’ তিনি আরও বলেন, নিখোঁজ যুবককে ফেরত না দেওয়ায় মঙ্গলবার উত্তেজিত হয়ে স্থানীয়রা ভারতীয় এক নাগরিককে তুলে নিয়ে আসেন। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। তিনি জীবিত নাকি মৃত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। জকিগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উত্তরকুল সীমান্ত এলাকার লোকজন দাবি করছেন সীমান্তের ওপারে একজনকে গুলি করে মারা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার গতকাল দুপুরে বলেন, ওই যুবক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 























