চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রায় দ্বিগুণ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপুল বরাদ্দের প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে, জনগণের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।
বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলামটরে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘স্বাস্থ্য বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা মনে করেন, কেবল বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না, সেই অর্থ সঠিক খাতে, সঠিক সময়ে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক। তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.০১ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ৭.৪ শতাংশ। এই বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, টিকাদান কর্মসূচি এবং অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ড. রুমানা হক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ জনগণকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে সামান্য অসুস্থতাও বহু পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলে দিচ্ছে। দ্রুত নগরায়ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























