আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে লিওনেল মেসি সব আলো নিজের দিকে টেনে নিলেও, ম্যাচ শেষে তার গোল ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রথমার্ধের একটি বিতর্কিত মুহূর্ত। অনেকের মতেই, ওই ঘটনায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লাল কার্ড দেখতে পারতেন। ম্যাচ শেষে এই ঘটনাটি ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকাকালে আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দিকে ট্যাকল করেন মেসি। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তার বুটের স্টাডস মান্দির পায়ের পেছনের অংশে লাগে। তবে ম্যাচ রেফারি শিমন মারচিনিয়াক কিংবা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কেউই ঘটনাটিকে লাল কার্ডের মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেননি।
এ নিয়ে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার নেদুম ওনুওহার মতে, মেসির শাস্তি পাওয়া উচিত ছিল। তিনি ইএসপিএনকে বলেন, ‘এটা লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। ঘটনাটি সবার নজর এড়িয়ে গেছে। খেলোয়াড়টি (মান্দি) যখন মাটিতে পড়ে গিয়েছিল, তখন মেসির মুখে ভয়ের ছাপ দেখা যাচ্ছিল। কারণ, সে বুঝতে পেরেছিল এমন কিছু করেছে, যা তাকে বিপদে ফেলতে পারে।’
তবে ফ্রান্স ও আর্সেনালের সাবেক তারকা থিয়েরি অঁরি ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফক্স স্পোর্টসকে অঁরি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সময় খেলোয়াড়ের উদ্দেশ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, লিওনেল মেসির পুরো মনোযোগ ছিল বলের দিকে এবং তার উদ্দেশ্য ছিল বল দখল, কাউকে আঘাত করা নয়। হ্যাঁ, ঘটনাটি কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও লাল কার্ডের মতো অপরাধ নয়।’
শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তি না পেয়েই ম্যাচ চালিয়ে যান মেসি। পরে তিন গোল করে দলকে বড় জয় উপহার দেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও নিজের করে নেন। তবে তার ওই চ্যালেঞ্জটি বিশ্বকাপের প্রথমদিকের সবচেয়ে আলোচিত রেফারিং বিতর্কগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 





















