সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তরকুল সীমান্তে এক বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৬ বছর বয়সী নিখোঁজ ডিপজল আহমদকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি করে হত্যা করেছে এবং তার লাশ সীমান্তের ওপারে আটকে রাখা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখনও এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।
নিখোঁজ ডিপজল আহমদ বারঠাকুরী ইউনিয়নের দিগালিগ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে বিজিবি জানিয়েছে। ডিপজল কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, গত রোববার রাতে ডিপজলসহ কয়েকজন যুবক ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে গুলি ছোড়ে। এ সময় ডিপজলের সঙ্গীরা পালিয়ে দেশে ফিরতে পারলেও ডিপজল নিখোঁজ হন। স্থানীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বিএসএফের গুলিতেই ডিপজলের মৃত্যু হয়েছে।
ডিপজলের সন্ধান না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে মঙ্গলবার উত্তেজিত জনতা সীমান্ত এলাকা থেকে রঞ্জিত দাস নামের এক ভারতীয় কৃষককে তুলে আনেন। তবে মঙ্গলবার রাতেই বিজিবির মধ্যস্থতায় তাকে অক্ষত অবস্থায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বারঠাকুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু জানান, এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভারতীয় নাগরিককে ফেরত দেওয়া হলেও বাংলাদেশি যুবক নিখোঁজের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত। ডিপজল জীবিত না মৃত, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্থানীয়রা সীমান্তের ওপারে একজনকে গুলি করে হত্যার দাবি করলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
১৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জুবায়ের আনোয়ার বুধবার দুপুরে বলেন, নিখোঁজ যুবককে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তিনি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 























