ঢাকা ০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় নৃত্য-সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার

প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার পূর্বঘোষিত উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার। এর ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি স্থগিত করেছে। দলটি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে তাদের জানানো হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগটি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পায়নি এবং এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে সরকার সরে এসেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঘোষিত সব বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, খেলাফত মজলিস মনে করে, দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ইসলামী মূল্যবোধ, পারিবারিক আদর্শ এবং জনগণের বিশ্বাস-চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো শিক্ষানীতি বা কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ভেতরে একটি মহল বারবার জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে নিয়ে আসছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, সরকার এসব উদ্যোগের নেপথ্যে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্ত্রণালয়ে এক সভায় প্রাথমিক শিক্ষায় ২০২৭ সাল থেকে পাঠ্যক্রমে এবং ২০২৮ সাল থেকে কারিকুলামে পূর্ণাঙ্গভাবে সঙ্গীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা বিষয় যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। ওই সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ: পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

প্রাথমিক শিক্ষায় নৃত্য-সঙ্গীত বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো সরকার

আপডেট সময় : ০৮:১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার পূর্বঘোষিত উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার। এর ফলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তাদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি স্থগিত করেছে। দলটি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে তাদের জানানো হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাট্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগটি মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পায়নি এবং এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া থেকে সরকার সরে এসেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঘোষিত সব বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, খেলাফত মজলিস মনে করে, দেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে ইসলামী মূল্যবোধ, পারিবারিক আদর্শ এবং জনগণের বিশ্বাস-চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক কোনো শিক্ষানীতি বা কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্কিত উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী কাঠামোর ভেতরে একটি মহল বারবার জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও জাতীয় চেতনার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন প্রস্তাব সামনে নিয়ে আসছে। তিনি প্রত্যাশা করেন, সরকার এসব উদ্যোগের নেপথ্যে জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্ত্রণালয়ে এক সভায় প্রাথমিক শিক্ষায় ২০২৭ সাল থেকে পাঠ্যক্রমে এবং ২০২৮ সাল থেকে কারিকুলামে পূর্ণাঙ্গভাবে সঙ্গীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা এবং চারু ও কারুকলা বিষয় যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। ওই সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।