ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সাফল্যের নেশা, তারপর দীর্ঘ বিরতি—খোলামেলা সামান্থা

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সাফল্য ও তারকাখ্যাতি তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে তিনি যেন সেই জনপ্রিয়তার নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তবে দীর্ঘ অসুস্থতা ও অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনদৃষ্টি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

নতুন সিনেমা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ মুক্তির আগে এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা নিজের অভিনয়জীবন, জনপ্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন।

সামান্থা বলেন, ছোট শহর থেকে উঠে এসে হঠাৎ বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া তাঁর কাছে ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। দর্শকদের ভালোবাসা, সাফল্য আর পরিচিতি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

তিনি বলেন, “তারকাখ্যাতির খেলায় আমি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। এক বছরে টানা পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল এবং সবগুলোই সফল হয়েছিল। তখন অনেকেই আমাকে ‘গোল্ডেন লেগ’ বলে ডাকতেন। মনে হতো, যেকোনো মূল্যে দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।”

অভিনেত্রীর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিরামহীনভাবে কাজ করে গেছেন। আরও বেশি সিনেমা করা এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে কখনো ভাবেননি যে অভিনয়জীবনেরও একটি সীমা থাকতে পারে।

২০২২ সালে মায়োসাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর কিছু সময়ের জন্য কাজ থেকে বিরতি নেন সামান্থা। সেই সময়টিই তাঁকে নতুনভাবে নিজের জীবন ও পেশা নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়।

তিনি বলেন, “সাফল্যের মধ্যে থাকলে মনে হয় এই যাত্রা কখনো শেষ হবে না। কিন্তু অসুস্থতার পর বুঝতে পেরেছি, অভিনয়জীবনেরও একটি শেষ আছে। এই উপলব্ধি আমার চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছে।”

সামান্থা জানান, অভিনয়ে ফিরে আসার আগে তিনি নিজের অনেক পুরোনো অভ্যাস ও কাজের ধরন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তিনি শুধু সাফল্যের পেছনে নয়, নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে চান।

এদিকে সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ আগামী ১৯ জুন মুক্তি পাচ্ছে। পারিবারিক অ্যাকশন-কমেডি ঘরানার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। ২০১৯ সালের সফল ছবি ‘ওহ! বেবি’-র পর আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন পরিচালক ও সামান্থা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যামিলি কার্ড: অস্বচ্ছল পরিবারের সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠবে – ডিসি ফরিদা খানম

সাফল্যের নেশা, তারপর দীর্ঘ বিরতি—খোলামেলা সামান্থা

আপডেট সময় : ১০:০৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সাফল্য ও তারকাখ্যাতি তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে তিনি যেন সেই জনপ্রিয়তার নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তবে দীর্ঘ অসুস্থতা ও অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনদৃষ্টি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

নতুন সিনেমা ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ মুক্তির আগে এক সাক্ষাৎকারে সামান্থা নিজের অভিনয়জীবন, জনপ্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরেন।

সামান্থা বলেন, ছোট শহর থেকে উঠে এসে হঠাৎ বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া তাঁর কাছে ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। দর্শকদের ভালোবাসা, সাফল্য আর পরিচিতি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

তিনি বলেন, “তারকাখ্যাতির খেলায় আমি আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম। এক বছরে টানা পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল এবং সবগুলোই সফল হয়েছিল। তখন অনেকেই আমাকে ‘গোল্ডেন লেগ’ বলে ডাকতেন। মনে হতো, যেকোনো মূল্যে দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।”

অভিনেত্রীর ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিরামহীনভাবে কাজ করে গেছেন। আরও বেশি সিনেমা করা এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তবে কখনো ভাবেননি যে অভিনয়জীবনেরও একটি সীমা থাকতে পারে।

২০২২ সালে মায়োসাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পর কিছু সময়ের জন্য কাজ থেকে বিরতি নেন সামান্থা। সেই সময়টিই তাঁকে নতুনভাবে নিজের জীবন ও পেশা নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়।

তিনি বলেন, “সাফল্যের মধ্যে থাকলে মনে হয় এই যাত্রা কখনো শেষ হবে না। কিন্তু অসুস্থতার পর বুঝতে পেরেছি, অভিনয়জীবনেরও একটি শেষ আছে। এই উপলব্ধি আমার চিন্তাভাবনা বদলে দিয়েছে।”

সামান্থা জানান, অভিনয়ে ফিরে আসার আগে তিনি নিজের অনেক পুরোনো অভ্যাস ও কাজের ধরন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তিনি শুধু সাফল্যের পেছনে নয়, নিজের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে চান।

এদিকে সামান্থার নতুন ছবি ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ আগামী ১৯ জুন মুক্তি পাচ্ছে। পারিবারিক অ্যাকশন-কমেডি ঘরানার এই ছবিটি পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। ২০১৯ সালের সফল ছবি ‘ওহ! বেবি’-র পর আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন পরিচালক ও সামান্থা।