ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরাইলি হামলা চুক্তি ভঙ্গ করতে পারে: ডগ ব্যান্ডো

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বিশেষ সহকারী ডগ ব্যান্ডো বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনকে তেল আবিবের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তবে এটি সহজ হবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। ব্যান্ডোর মতে, ট্রাম্প মূলত বৈরুতে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, যেখানে সংঘাতের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের ওপর প্রকৃত চাপ প্রয়োগ না করা হলে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধের আহ্বান সহজেই উপেক্ষা করতে পারবেন।’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে ব্যান্ডো বলেন, ওয়াশিংটন ইসরাইলকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চাইলে ইসরাইলের জন্য মার্কিন সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বা অর্থসহায়তা বন্ধ করতে প্রস্তুত হননি। এছাড়া কংগ্রেসও সম্ভবত এমন সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে না।’

ব্যান্ডোর সতর্কবার্তা, ‘যদি ট্রাম্প বাস্তবিক চাপ প্রয়োগ না করেন বা তা করার কার্যকর উপায় খুঁজে না পান, তাহলে এসব পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কেবল রাজনৈতিক প্রদর্শনী হয়ে থাকবে। ইরানও এতে সন্তুষ্ট হবে না। ফলে বিদ্যমান চুক্তি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হোয়াইট হাউসে হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ: এফবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ৫

লেবাননে ইসরাইলি হামলা চুক্তি ভঙ্গ করতে পারে: ডগ ব্যান্ডো

আপডেট সময় : ১১:২৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের বিশেষ সহকারী ডগ ব্যান্ডো বলেছেন, লেবাননে ইসরাইলের চলমান হামলা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনকে তেল আবিবের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তবে এটি সহজ হবে না, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। ব্যান্ডোর মতে, ট্রাম্প মূলত বৈরুতে হামলা বন্ধ করার বিষয়ে মনোযোগী বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, যেখানে সংঘাতের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইসরাইলের ওপর প্রকৃত চাপ প্রয়োগ না করা হলে নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে হামলা বন্ধের আহ্বান সহজেই উপেক্ষা করতে পারবেন।’ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে ব্যান্ডো বলেন, ওয়াশিংটন ইসরাইলকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ফলে লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চাইলে ইসরাইলের জন্য মার্কিন সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বা অর্থসহায়তা বন্ধ করতে প্রস্তুত হননি। এছাড়া কংগ্রেসও সম্ভবত এমন সিদ্ধান্ত সমর্থন করবে না।’

ব্যান্ডোর সতর্কবার্তা, ‘যদি ট্রাম্প বাস্তবিক চাপ প্রয়োগ না করেন বা তা করার কার্যকর উপায় খুঁজে না পান, তাহলে এসব পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কেবল রাজনৈতিক প্রদর্শনী হয়ে থাকবে। ইরানও এতে সন্তুষ্ট হবে না। ফলে বিদ্যমান চুক্তি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’