ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহে পিত্তথলি অপারেশনে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নাড়ি ও শিরা কাটার অভিযোগ

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় এক গৃহবধূর পিত্তথলি অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এতে রোগীর নাড়ি ও শিরা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুল চিকিৎসার শিকার ২৫ বছর বয়সী গৃহবধূ সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এবং তার দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী রোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন অভিযুক্ত চিকিৎসক শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাজেদ হোসেন জানান, গত ১৮ মে তার মেয়ে মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে তাকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে জানান, রোগীর পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। এরপর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে ডা. মামুন তার নিজের নির্দেশনায় মিতাকে কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত শৈলকূপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতালে ভর্তি করান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং তার ডেকে আনা ডা. নাসির উদ্দিন মিতার পিত্তথলিতে অপারেশন করেন। তবে, অপারেশনের সময় চরম অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে তারা পিত্তথলির পাশের বেশ কিছু নাড়ি ও রক্তনালী (শিরা) কেটে ফেলেন। এতে রোগীর পেট থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলেও ডা. মামুন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও রেফার্ড না করে পাঁচ দিন ধরে ওই প্রাইভেট হাসপাতালেই রেখে চিকিৎসা দিতে থাকেন। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হলে গত ২৩ মে ১১ হাজার টাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে সিট না পাওয়ায় ওই রাতেই রোগীকে রাজধানীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হয় তার পরিবার। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর এবং পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে মিতার জীবন রক্ষা পেলেও বেসরকারি হাসপাতালের বিল আসে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দরিদ্র বাবার সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের পতাকায় কালেমা: প্রোটোকল ভেঙে ফিফার সম্মান প্রদর্শন

ঝিনাইদহে পিত্তথলি অপারেশনে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নাড়ি ও শিরা কাটার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় এক গৃহবধূর পিত্তথলি অপারেশনের সময় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এতে রোগীর নাড়ি ও শিরা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ভুল চিকিৎসার শিকার ২৫ বছর বয়সী গৃহবধূ সুস্মিতা ওরফে মিতা খাতুন বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন এবং তার দরিদ্র পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী রোগীর পিতা মো. মাজেদ হোসেন অভিযুক্ত চিকিৎসক শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার সহযোগী ডা. নাসির উদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনি ব্যবস্থা দাবি করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাজেদ হোসেন জানান, গত ১৮ মে তার মেয়ে মিতা খাতুনের পেটে তীব্র ব্যথা হলে তাকে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দেখে জানান, রোগীর পিত্তথলিতে পাথর হয়েছে। এরপর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে ডা. মামুন তার নিজের নির্দেশনায় মিতাকে কবিরপুর তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত শৈলকূপা প্রাইভেট শিশু হাসপাতালে ভর্তি করান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং তার ডেকে আনা ডা. নাসির উদ্দিন মিতার পিত্তথলিতে অপারেশন করেন। তবে, অপারেশনের সময় চরম অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে তারা পিত্তথলির পাশের বেশ কিছু নাড়ি ও রক্তনালী (শিরা) কেটে ফেলেন। এতে রোগীর পেট থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলেও ডা. মামুন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোথাও রেফার্ড না করে পাঁচ দিন ধরে ওই প্রাইভেট হাসপাতালেই রেখে চিকিৎসা দিতে থাকেন। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হলে গত ২৩ মে ১১ হাজার টাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে সিট না পাওয়ায় ওই রাতেই রোগীকে রাজধানীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে বাধ্য হয় তার পরিবার। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর এবং পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে মিতার জীবন রক্ষা পেলেও বেসরকারি হাসপাতালের বিল আসে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মেয়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে দরিদ্র বাবার সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।