জাতীয় সংসদে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে সরকার দলীয় সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা মহানগরী উত্তর। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভানেত্রী সাওদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বশীলা মারজিয়া সিদ্দিকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তামিমা আফরোজ। এছাড়াও ঢাকা মহানগরী পশ্চিম সেক্রেটারি মাহবুবা আক্তার, উত্তর সেক্রেটারি খাদিজা আক্তার, মহানগরী উত্তরের ইকরা কবির বিন নুর, মহানগরীর সদস্যা নুসাইবা ফারিয়াহ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর প্রতিনিয়ত আঘাত হানছে। একই সঙ্গে শুধুমাত্র বাহ্যিক পোশাকের কারণে নারীদের হেনস্থা, অপমান ও কটুক্তি করা হচ্ছে। বিশেষ করে পর্দানশীন নারীরা এর মূল লক্ষ্যবস্তু। ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও সমাজ, পরীক্ষার হল, কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই এই নিচু মানসিকতার আক্রোশের শিকার হচ্ছেন নারী সমাজ। তাই এর বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিষয়টি এখন জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র অঙ্গনে গিয়ে ঠেকেছে। যে সংসদ গণতন্ত্র ও সংবিধানের ধারক-বাহক, সেই জাতীয় সংসদেই বোরকা-হিজাব পরিহিত নারী এমপিদের নিয়ে বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর কটূক্তি এবং তাতে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যের সমর্থনসূচক প্রতিক্রিয়ার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত।
মানববন্ধনে ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভানেত্রী সাওদা ইয়াসমিন বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ধর্মীয় সাংবিধানিক অধিকারকে অবমাননা করে বোরকা-হিজাব-নিকাব নিয়ে কটূক্তি করা এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এবং দেশের সর্বক্ষেত্রে পর্দানশীন, নিকাব পরিহিত নারীদের নারী পর্যবেক্ষক/শিক্ষক দ্বারা চিহ্নিতকরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
ছাত্রীসংস্থার প্রস্তাবের মধ্যে আরও রয়েছে—ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে কটূক্তি বা হেনস্তার বিরুদ্ধে সংবিধান স্বীকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে; প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দলীয় পরিমণ্ডলে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে এবং এই ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























