রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলার ১ নম্বর নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পশ্চিম পাশে অবস্থিত নওপাড়া দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। জানা যায়, মাদরাসাটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে ২০০৪ সালে মাদরাসার পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০০৬ সাল থেকে এই মাদরাসার শিক্ষার্থীরা একাডেমিক (দাখিল) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগুলো জরাজীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং আর্থিক সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান বজায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে, সরকারি সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুম জানায়, তাদের মাদরাসার প্রতিটি ক্লাসরুমে বৃষ্টির পানি পড়ে এবং এর মধ্যেই তাদের কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষে ইয়াচিন আলী জানান, দ্রুত মাদরাসাটিকে এমপিওভুক্ত করা হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং শিক্ষকরা তাদের বেতন-ভাতা পেলে কাজে আরও উৎসাহ পাবেন।
মাদরাসার সহকারী সুপার কাদের জানান, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা ন্যায্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের এই মাদরাসাটি তারেক রহমান উদ্বোধন করেছিলেন, তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, যেন আমাদের এই মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি রহুল আমিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছিলেন বলে আওয়ামী শাসনামলে এই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করা হয়নি এবং কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















