ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রতিষ্ঠার আট বছরেও নিজস্ব ভবন নেই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার: ভাড়া বাড়িতে চলছে দাপ্তরিক কাজ, ভোগান্তিতে নাগরিকরা

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিজস্ব কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ভবন না থাকায়, উপজেলার দাপ্তরিক কাজগুলো বিভিন্ন ভাড়া করা বাসা-বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে, যা উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ২৪ জুন শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তখন একজন ইউএনও এবং একজন উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। এরপর একে একে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

তবে, নিজস্ব ভবন না থাকার কারণে উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা বাসা ও দোকানে দাপ্তরিক কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুরাতন একটি ঘরে, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় একটি পুরাতন জমিদার বাড়িতে, এবং উপজেলা পরিষদের ভবন একটি প্রবাসীর বাসায় অবস্থিত। এই ভাড়া করা ভবনে পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য তিনটি রুম, নির্বাচন অফিস, প্রকৌশলী অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় এবং আইসিটি অফিস রয়েছে। এছাড়াও, প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল একটি আলাদা বাসায়, কৃষি অফিস হবিগঞ্জ রোডের একটি বাসায়, মৎস্য সম্পদ অফিস অন্য একটি বাসায় এবং আনসার কার্যালয়ও একই রোডে অবস্থিত। আরও কয়েকটি দপ্তর একইভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সেবা নিতে আসা উপজেলার নাগরিকরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলার কদমতলী গ্রামের হাফেজ বাবুল আহমেদ বলেন, দপ্তরগুলো এক বিল্ডিংয়ে না হওয়ায় বিভিন্ন কাজে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যেমন— ইউএনও অফিস থেকে কৃষি অফিস বা মৎস্য অফিসের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। সমাজসেবা অফিস এক জায়গায়, আবার সমবায় অফিস আধাকিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে একদিনে একাধিক দপ্তরে গিয়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য বড়চর মৌজার ২৫টি দাগে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ছয় একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্টসহ মাটি ভরাটের কাজও শেষ হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ স ম আফজল আলী আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং দ্রুত উপজেলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

প্রতিষ্ঠার আট বছরেও নিজস্ব ভবন নেই শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার: ভাড়া বাড়িতে চলছে দাপ্তরিক কাজ, ভোগান্তিতে নাগরিকরা

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিজস্ব কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। ভবন না থাকায়, উপজেলার দাপ্তরিক কাজগুলো বিভিন্ন ভাড়া করা বাসা-বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে, যা উপজেলার বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ২৪ জুন শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তখন একজন ইউএনও এবং একজন উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। এরপর একে একে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

তবে, নিজস্ব ভবন না থাকার কারণে উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা বাসা ও দোকানে দাপ্তরিক কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুরাতন একটি ঘরে, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় একটি পুরাতন জমিদার বাড়িতে, এবং উপজেলা পরিষদের ভবন একটি প্রবাসীর বাসায় অবস্থিত। এই ভাড়া করা ভবনে পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য তিনটি রুম, নির্বাচন অফিস, প্রকৌশলী অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয় এবং আইসিটি অফিস রয়েছে। এছাড়াও, প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল একটি আলাদা বাসায়, কৃষি অফিস হবিগঞ্জ রোডের একটি বাসায়, মৎস্য সম্পদ অফিস অন্য একটি বাসায় এবং আনসার কার্যালয়ও একই রোডে অবস্থিত। আরও কয়েকটি দপ্তর একইভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সেবা নিতে আসা উপজেলার নাগরিকরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। উপজেলার কদমতলী গ্রামের হাফেজ বাবুল আহমেদ বলেন, দপ্তরগুলো এক বিল্ডিংয়ে না হওয়ায় বিভিন্ন কাজে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যেমন— ইউএনও অফিস থেকে কৃষি অফিস বা মৎস্য অফিসের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। সমাজসেবা অফিস এক জায়গায়, আবার সমবায় অফিস আধাকিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে একদিনে একাধিক দপ্তরে গিয়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য বড়চর মৌজার ২৫টি দাগে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ছয় একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সয়েল টেস্টসহ মাটি ভরাটের কাজও শেষ হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আ স ম আফজল আলী আশা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সরকার এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং দ্রুত উপজেলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।