ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

হাদি হত্যাকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রাকসুর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বর্তমান সরকার পর্যন্ত শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যখনই দেশে কোনো সংকট তৈরি হয়, যেমন – তেলের দাম বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যু বা দুর্ঘটনা, তখনই সরকারের পক্ষ থেকে হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সামনে আনা হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংগঠনটি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসি-সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, গত সপ্তাহে তারা সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট রূপরেখা জানানোর জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি এবং সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচার সম্পন্ন করার সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যদি পরিষ্কার অবস্থান না জানায়, তাহলে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিকভাবে জবাবদিহি চাইবে। প্রয়োজন হলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশীয় অপরাধীদের চিহ্নিত করা, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাউনিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী

হাদি হত্যাকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ রাকসুর

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বর্তমান সরকার পর্যন্ত শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যখনই দেশে কোনো সংকট তৈরি হয়, যেমন – তেলের দাম বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যু বা দুর্ঘটনা, তখনই সরকারের পক্ষ থেকে হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সামনে আনা হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংগঠনটি শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসি-সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, গত সপ্তাহে তারা সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট রূপরেখা জানানোর জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি এবং সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিচার সম্পন্ন করার সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যদি পরিষ্কার অবস্থান না জানায়, তাহলে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিকভাবে জবাবদিহি চাইবে। প্রয়োজন হলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশীয় অপরাধীদের চিহ্নিত করা, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানান। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।