ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোস্ট গার্ডের নিরবচ্ছিন্ন অভিযান

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মোংলা বন্দরের সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে কোস্ট গার্ড।

বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুজন আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে অদ্যাবধি ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকিসহ ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত তিন মাসব্যাপী পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ পাচার প্রতিরোধেও কোস্ট গার্ড কাজ করছে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কোস্ট গার্ডের নিরবচ্ছিন্ন অভিযান

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মোংলা বন্দরের সুরক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনদস্যু দমন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মোংলা বন্দরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে কোস্ট গার্ড।

বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুজন আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে অদ্যাবধি ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকিসহ ৩৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানের ফলে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখে কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত তিন মাসব্যাপী পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ আহরণ, বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ পাচার প্রতিরোধেও কোস্ট গার্ড কাজ করছে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।