ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সাবেক এএসপি ফজলুর রহমান কারাগারে: সুখরঞ্জন বালী গুম মামলার নতুন মোড়

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমানকে সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুমের এই ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত।

শুক্রবার (গতকাল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুম করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কমপ্লেইন্ট (রেজি-১৮৮) মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলালুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী তার আইনজীবীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের মূল ফটকের সামনে গাড়িযোগে এসে থামার সঙ্গে সঙ্গে সাদা পোশাকধারী একদল লোক সুখরঞ্জন বালীকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে সাদা ডাবল কেবিন গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দুই মাস ধরে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫ বছর আটক রাখা হয়। সেখানে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে বাবাকে জামিনে মুক্ত করে দেশে নিয়ে আসেন।

মামলাটি তদন্তকালে এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ঘটনার দিন ডিএমপি ডিবি থেকে দুটি ডাবল কেবিন গাড়িযোগে অভিযুক্ত মো. ফজলুর রহমান ও তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের সামনে থেকে জোরপূর্বকভাবে সুখরঞ্জন বালীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে হাজতখানায় রাখার পর তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই মামলায় জড়িত থাকার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অতএব, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ম্যাচটি ছিল পাগলাটে’: জয় শেষে অবসর নিয়ে যা বললেন রোনালদো

সাবেক এএসপি ফজলুর রহমান কারাগারে: সুখরঞ্জন বালী গুম মামলার নতুন মোড়

আপডেট সময় : ১২:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমানকে সুখরঞ্জন বালীকে গুমের ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুমের এই ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত।

শুক্রবার (গতকাল) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে গুম করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কমপ্লেইন্ট (রেজি-১৮৮) মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হেলালুল ইসলাম। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর পক্ষের সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী তার আইনজীবীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের মূল ফটকের সামনে গাড়িযোগে এসে থামার সঙ্গে সঙ্গে সাদা পোশাকধারী একদল লোক সুখরঞ্জন বালীকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে সাদা ডাবল কেবিন গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় দুই মাস ধরে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে ভারতের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫ বছর আটক রাখা হয়। সেখানে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তার ছেলে অপূর্ব বালী ভারতে গিয়ে বাবাকে জামিনে মুক্ত করে দেশে নিয়ে আসেন।

মামলাটি তদন্তকালে এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ঘটনার দিন ডিএমপি ডিবি থেকে দুটি ডাবল কেবিন গাড়িযোগে অভিযুক্ত মো. ফজলুর রহমান ও তার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, পুরাতন হাইকোর্ট ভবনের সামনে থেকে জোরপূর্বকভাবে সুখরঞ্জন বালীকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে হাজতখানায় রাখার পর তাকে সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই মামলায় জড়িত থাকার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অতএব, মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে জেলহাজতে আটক রাখার আবেদন করা হয়।