ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

২৩ বছরের সেবায় মুগ্ধ এলাকাবাসী: সুনামগঞ্জে মুয়াজ্জিন গোলাম কবিরকে রাজকীয় বিদায়

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে উত্তর জগন্নাথপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাদানকারী মুয়াজ্জিন গোলাম কবিরকে এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। তাঁর সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই ‘রাজকীয়’ বিদায় আয়োজনে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে গোলাম কবিরকে সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি শোভাযাত্রা তাঁর গাড়িকে বহর দিয়ে নিয়ে যায়। পুরো পথজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় জানান, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে গ্রামের যুবসমাজের পক্ষ থেকে গোলাম কবিরের হাতে নগদ অর্থ, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লি আকামত আলী, সদস্য ফারুক আহমদ, আনর মিয়া, মইন উদ্দিন ও আজিজুল মিয়া।

সাংবাদিক আলী হোসেন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফারুক মিয়া, আনর মিয়া এবং আলী হোসেন রাজ। বক্তারা বলেন, গোলাম কবির শুধু আজান ও ধর্মীয় দায়িত্বই পালন করেননি, বরং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণ এলাকাবাসীর কাছে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শেষে গোলাম কবিরের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের সর্বস্তরের যুবক, মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এই ব্যতিক্রমী বিদায়ী অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ম্যাচটি ছিল পাগলাটে’: জয় শেষে অবসর নিয়ে যা বললেন রোনালদো

২৩ বছরের সেবায় মুগ্ধ এলাকাবাসী: সুনামগঞ্জে মুয়াজ্জিন গোলাম কবিরকে রাজকীয় বিদায়

আপডেট সময় : ১২:০০:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে উত্তর জগন্নাথপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবাদানকারী মুয়াজ্জিন গোলাম কবিরকে এক ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। তাঁর সততা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই ‘রাজকীয়’ বিদায় আয়োজনে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মসজিদের মুসল্লি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে গোলাম কবিরকে সুসজ্জিত মাইক্রোবাসে করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় শতাধিক মোটরসাইকেলের একটি শোভাযাত্রা তাঁর গাড়িকে বহর দিয়ে নিয়ে যায়। পুরো পথজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিদায় জানান, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে গ্রামের যুবসমাজের পক্ষ থেকে গোলাম কবিরের হাতে নগদ অর্থ, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লি আকামত আলী, সদস্য ফারুক আহমদ, আনর মিয়া, মইন উদ্দিন ও আজিজুল মিয়া।

সাংবাদিক আলী হোসেন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফারুক মিয়া, আনর মিয়া এবং আলী হোসেন রাজ। বক্তারা বলেন, গোলাম কবির শুধু আজান ও ধর্মীয় দায়িত্বই পালন করেননি, বরং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণ এলাকাবাসীর কাছে সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শেষে গোলাম কবিরের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ জীবন কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের সর্বস্তরের যুবক, মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এই ব্যতিক্রমী বিদায়ী অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।