ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নতুন সরকারের বাজেট উচ্চাভিলাষী, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: আহসান এইচ মনসুর

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, নতুন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে তিনি কিছুটা উচ্চাভিলাষী হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে এর বাস্তবায়ন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, বর্তমানে রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি তেমন অনুকূল নয়। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে মূলত ঋণের উপর নির্ভর করতে হবে, যার একটি বড় অংশ আসবে ব্যাংকিং খাত থেকে। কিন্তু দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান টালমাটাল অবস্থা উদ্বেগজনক। ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার কারণে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কতটুকু অর্জন করা সম্ভব হবে, তাও একটি প্রশ্ন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো কর্মসূচি বর্তমানে চালু নেই, যা এই লক্ষ্য অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বাজেটে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না। এই খাতের অস্থিরতা শুধু বাজেটেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত এবং শান্তিপূর্ণভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি ছাড়াই। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগের মতো ঘটনাগুলো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাহ্যিক প্রভাবের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। আর্থিক খাতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তার দৃষ্টিতে, এটি একটি অপ্রয়োজনীয় এবং নিজেরা ডেকে আনা সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি বেশ ভালোই চলছিল এবং এর তারল্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। অন্যান্য অনেক ব্যাংকের তুলনায় আমানতের প্রবৃদ্ধিও বেশ শক্তিশালী ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তাও ব্যাংকটি ইতোমধ্যে পরিশোধ করে একটি শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে ফিরে এসেছিল। এখন এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত তুলে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তবে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন কোটি গ্রাহককে সেবা দিয়ে আসছে। এসব গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহৎ অখণ্ড কংগ্রেসের পথে ভারত? মমতার তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা

নতুন সরকারের বাজেট উচ্চাভিলাষী, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: আহসান এইচ মনসুর

আপডেট সময় : ০৭:০২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, নতুন সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে তিনি কিছুটা উচ্চাভিলাষী হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ হবে এর বাস্তবায়ন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, বর্তমানে রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি তেমন অনুকূল নয়। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে মূলত ঋণের উপর নির্ভর করতে হবে, যার একটি বড় অংশ আসবে ব্যাংকিং খাত থেকে। কিন্তু দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান টালমাটাল অবস্থা উদ্বেগজনক। ব্যাংক খাত থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার কারণে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ সংগ্রহের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কতটুকু অর্জন করা সম্ভব হবে, তাও একটি প্রশ্ন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো কর্মসূচি বর্তমানে চালু নেই, যা এই লক্ষ্য অর্জনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং খাতের চলমান অস্থিরতা নিয়ে বাজেটে কোনো স্পষ্ট রূপরেখা দেখা যাচ্ছে না। এই খাতের অস্থিরতা শুধু বাজেটেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত এবং শান্তিপূর্ণভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, কোনো প্রকার জোরজবরদস্তি ছাড়াই। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

মনসুর বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করছে। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগের মতো ঘটনাগুলো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাহ্যিক প্রভাবের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই ধরনের হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে আমরা অত্যন্ত চিন্তিত। আর্থিক খাতে এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তার দৃষ্টিতে, এটি একটি অপ্রয়োজনীয় এবং নিজেরা ডেকে আনা সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকটি বেশ ভালোই চলছিল এবং এর তারল্য পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছিল। অন্যান্য অনেক ব্যাংকের তুলনায় আমানতের প্রবৃদ্ধিও বেশ শক্তিশালী ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তাও ব্যাংকটি ইতোমধ্যে পরিশোধ করে একটি শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানে ফিরে এসেছিল। এখন এই পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকটি থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত তুলে নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়, তবে তা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন কোটি গ্রাহককে সেবা দিয়ে আসছে। এসব গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।