ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৭.৫ শতাংশে নামানো প্রায় অসম্ভব: সিপিডির মত

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অসম্ভব। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি সরকারের প্রথম বাজেট এবং এটি এমন এক সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি, প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আদায় ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় আছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকলেও, জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে, বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাত-নির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে।

সিপিডি তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়াতে উল্লেখ করেছে যে, বাজেটের সাফল্য তার আকারের উপর নির্ভর করে না, বরং বাস্তবায়নের মানের উপর নির্ভর করবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না। সিপিডির মতে, বাজেট লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য, যারা দক্ষতার সাথে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৭.৫ শতাংশে নামানো প্রায় অসম্ভব: সিপিডির মত

আপডেট সময় : ০৭:০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অসম্ভব। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী তামিম আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটটি সরকারের প্রথম বাজেট এবং এটি এমন এক সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। গত প্রায় চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি, প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কম, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আদায় ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় আছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকলেও, জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে, বাজেটকে মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের মূল দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাত-নির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে।

সিপিডি তাদের বাজেট প্রতিক্রিয়াতে উল্লেখ করেছে যে, বাজেটের সাফল্য তার আকারের উপর নির্ভর করে না, বরং বাস্তবায়নের মানের উপর নির্ভর করবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না। সিপিডির মতে, বাজেট লক্ষ্য অর্জনের জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য, যারা দক্ষতার সাথে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে।