দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। কৃষিক্ষেত্রে পূর্বাভাস থেকে শুরু করে শিক্ষাক্ষেত্রে সহায়তা এবং অত্যাধুনিক ভাষা মডেল পর্যন্ত এআইয়ের প্রভাব অনস্বীকার্য। তবে, এই প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে, যা আমাদের সমাজের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আমরা এমন সব মেশিন তৈরি করছি যা আঁকতে, লিখতে এবং কথা বলতে পারে। কিন্তু এই ক্ষমতা যদি ভুল হাতে পড়ে, তবে তা যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, সেই বাস্তবতার মুখোমুখি আমাদের হতেই হবে। এর একটি উদাহরণ হতে পারে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সম্মানহানি, যদি তার অজান্তেই কোনো ক্ষতিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অথবা, একজন সাধারণ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়া, যদি তার প্রিয়জনের অবিকল এআই ক্লোন করা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কেউ আর্থিক প্রতারণা করে। এগুলো এখন আর কল্পকাহিনি নয়, বরং উদীয়মান বাস্তবতা। প্রতিটি ডেটা এবং অ্যালগরিদমের পেছনে একজন মানবিক সত্তা জড়িত, এবং তাদের সুরক্ষার জন্য আমাদের বর্তমান আইনি কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল।
এসব বিবেচনায়, বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একটি নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, আমাদের বর্তমান আইন এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে তাল মেলাতে পারছে না। ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’-এর মতো কিছু আইন থাকলেও, সেগুলো মূলত প্রতিক্রিয়াশীল এবং পুরনো প্রযুক্তির জন্য তৈরি। জেনারেটিভ এআই, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত বা বায়োমেট্রিক ডেটার অননুমোদিত সংগ্রহ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সূক্ষ্ম আইনি ভাষার অভাব রয়েছে এসব আইনে।
যখন কোনো প্রতারক ডিপফেক কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নেয়, তখন আমাদের প্রচলিত দণ্ডবিধি তার সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়। জালিয়াতি, মানহানি বা ছদ্মবেশ ধারণের মতো অপরাধের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যখন অপরাধের হাতিয়ার কোনো বস্তু নয়, বরং একটি গতিশীলভাবে তৈরি ডিজিটাল সত্তা। তদুপরি, আমাদের সাক্ষ্য আইন ডিজিটাল প্রমাণের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আদালতে ডিজিটাল প্রমাণের সত্যতা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, যখন এআইয়ের মাধ্যমে তা তৈরি করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 



















